জো ক স

/ সত্যজিত্ বিশ্বাস

বাণিজ্য মেলার সংজ্ঞা

স্বামীদের চোখে :গলাকাটা বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে দোকানিরা যে মেলা সাজিয়ে রাখে, তাই হলো বাণিজ্য মেলা।

স্ত্রীদের চোখে :যে মেলায় এলে মনে হয়, আহারে, আমার কতকিছু যে বাণিজ্য করা দরকার, সেটাই বাণিজ্য মেলা!

ব্যাচেলরদের চোখে :যে মেলায় স্টলে স্টলে সাজুগুজু করা সুন্দরী মেয়েদের দেখতে পাওয়া যায়, সেটাই হলো বাণিজ্য মেলা।

প্রেমিক-প্রেমিকা :পার্কের বিকল্প হিসেবে যে মেলায় নির্বিঘ্নে হাতে হাত ধরে হাঁটাহাঁটি করা যায়, সেলফি তোলা যায়, তাকেই বাণিজ্য মেলা বলে।

সমালোচকদের চোখে :গাউসিয়া আর নিউমার্কেটের ককটেলকে বাণিজ্য মেলা বলে।

ব্যবসায়ীদের চোখে :চকবাজার, বঙ্গ মার্কেট আর নিউমার্কেটের মালের ঘুঘনি মিশিয়ে ডাবল দামে বিক্রি করার সুুযোগ পাওয়াকে বাণিজ্য মেলা বলে।

সুশীল/চিন্তাবিদদের চোখে :উন্নয়নের শোআপ/প্রদর্শনী করার কারবারকে বাণিজ্য মেলা বলে।

মধ্যবিত্তের চোখে :ঘুরে ঘুরে দিল্লি কা লাড্ডু খাওয়ার আরেক নাম বাণিজ্য মেলা।

সুযোগ সন্ধানীদের চোখে :‘একটা কিনলে দুইটা ফ্রি’ পাওয়ার অফারের মেলাকে বাণিজ্য মেলা বলে।

 

নির্বাচনী বাণী

v শত কথা না হলে বিয়ে হয় না। শত মাইক না বাজালে নির্বাচন হয় না।

v ভালো, গুণী, যোগ্য মানুষ দেখতে চান? একমাত্র নির্বাচনই আপনাকে সে সুযোগ করে দেয়। (বিশ্বাস না হলে তাদের প্রচারণার দিকে লক্ষ রাখুন)

v কথা দিতে হলে দিন। একজনকে কেন, সবাইকেই দিন। ভোটার হলে কাউকে নিরাশ করতে হয় না। 

v কথা দিতে হলে দিন। একজনকে কেন, সবাইকেই দিন। প্রার্থী হলে কাউকে নিরাশ করতে হয় না। 

 

সত্য বাবার কাছে প্রশ্ন 

v একা একা সুখী হওয়ার উপায় কী?  

v ভেজিটেরিয়ান হলেই যদি স্বাস্থ্য কমানো যায়, তাহলে হাতি এত মোটা কেন? 

v নির্বাচনী প্রচারে সারাদিন মাইকিংয়ের অত্যাচার হতে মুক্তির উপায় কী?

v কী কী গুণ থাকলে তাকে যোগ্য প্রার্থী বলে?  

v ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ কোথায় পাওয়া যায়?

(উত্তর খুঁজে নিন, কেননা, এর উত্তর জোকস লেখককেও অনেক খুঁজতে হয়েছে।)

 

অর্থই সকল অনর্থের মূল

শিক্ষক :শোন বাবারা, অর্থই সকল অনর্থের মূল।

ছাত্র :তাই যদি হয়, অর্থের বিনিময়ে আপনি পড়াচ্ছেন কেন আর অর্থ উপার্জনের জন্য আমরাই-বা পড়ছি কেন, স্যার?

 

এমএমসিসি

একজন নবীন লেখক বইমেলায় বই প্রকাশ করে বন্ধুকে ফোনে ডাকছে।

মনু মিয়া :হ্যালো দোস্ত, আমি কবিতার বই বের করেছি, মেলায় আয় দেখবি।

তনু মিয়া :মনু রে, কতদিন পর ফোন করলি। তা, তোর বইয়ের কাটতি কেমন?

মনু মিয়া :এমএমসিসি। 

তনু মিয়া :বলিস কী? একেবারে মার মার কাট কাট?

মনু মিয়া :আরে ধুর, মনু মিয়া ক্লিন কট। নাইলে কী আর ফোন করে তোদের ডাকি?

 

আমার মামা সব জানে

ভাগ্নে :ধুর, এই সিরিজে বাংলাদেশ টিমের কোনো অর্জনই তো হলো না।

মামা :কে বলে হলো না? অভিজ্ঞতা বাড়ল না? 

ভাগ্নে :এই সিরিজ খেলে হারার অভিজ্ঞতা ছাড়া আর কী পেল বাংলাদেশ টিম?

মামা :কেন, নিরাপত্তার ঘেরাটপে খেলার অভ্যাস। 

 

হোয়াইট ওয়াশ না রেইন ওয়াশ

প্রথম বন্ধু :ইশ, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে এমন হোয়াইট ওয়াশ হয়ে এলো?

দ্বিতীয় বন্ধু :হোয়াইট ওয়াশ হয়নি তো। শেষ ম্যাচে তো রেইন ওয়াশ হয়েছে।

 

সিগারেটের বিজ্ঞাপন

তুমি যদি কাউকে ভালবেসে চুমু খাও তবে আমি নিশ্চিত, আমাকেও ঠোঁটে নেবে একদিন। 

 

এই পূজা, সেই পূজা না

প্রথম বন্ধু :দোস্ত, পূজা আসছে। এবার অনেক মজা হবে।

দ্বিতীয় বন্ধু :তাই? কবে রে?

প্রথম বন্ধু :এই তো ৩০তারিখ।

দ্বিতীয় বন্ধু :অনেকদিন পর এলো বুঝি?

প্রথম বন্ধু :তা তো ঠিকই, এক বছর পর।

দ্বিতীয় বন্ধু :ক’দিন থাকবে এবার?

প্রথম বন্ধু :কেন? একদিনই তো থাকবে।

দ্বিতীয় বন্ধু :মাত্র একদিন, কেন? আর কটা দিন থেকে যেতে বল না?

প্রথম বন্ধু :আমি থেকে যেতে বলব মানে? পূজা তো একদিনই থাকে।

দ্বিতীয় বন্ধু :তুই কি স্বরস্বতী পূজার কথা বলছিস? আমি আরো ভাবলাম তোর কাজিন পূজার কথা বলছিস? 

 

অসহনীয় সত্য

—স্বামী মরে গেলে বউ বিধবা হয়, আর বউ মরে গেলে স্বামী কী হয়?

—ব্যাচেলর হয়।

 

লেডিকিলার

প্রথম দোস্ত :জানিস, চন্দন তো দিন দিন লেডিকিলার হয়ে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় দোস্ত :কী যে কস! রাস্তায় মাইয়া দেখলে যে কাঁপতে কাঁপতে গায়ে হোন্ডা উঠাইয়া দেয়, সে লেডিকিলার?

প্রথম দোস্ত :তাইলে সে কী?

 

সত্য বাবার উত্তর

v কম টাকায় ইন্টারনেটের প্যাকেজ কেনা।

v জন্মদোষ। 

v প্রচার প্রার্থীর বাসায় অবস্থান নেওয়া।

v কথায় কথায় প্রতিশ্রতি দেওয়ার প্রতিভা থাকলে, তাকে যোগ্য প্রার্থী বলে।

v স্টেডিয়ামে।

 

ভালোবাসবা না বললেই হয়

এক রোমিও, পাড়ার সেরা সুন্দরীকে পটানোর খুব চেষ্টা করছে।

রোমিও :আমি তোমাকে অন্নেক ভালোবাসি।

সুন্দরী :সে তো সবাই বলে।

রোমিও : আমি সবার থেকে আলাদা। আমি তোমার জন্য মুহূর্তের মধ্যে আকাশ থেকে চাঁদ পেড়ে নিয়ে আসতে পারি।

সুন্দরী :সে তো সবাই বলে।

রোমিও :আমি তোমার জন্য নিমিষেই এনে দিতে পারি ১০৮টা নীল পদ্ম।  

সুন্দরী :সে তো সবাই বলে।

রোমিও :হিমালয় থেকে মেঘ, অ্যান্টার্কটিকা থেকে বরফ, বলো কী চাই তোমার? এক মুহূর্তেই নিয়ে আসছি।

সুন্দরী :এক মুহূর্তেই আনতে হবে না। এক ঘণ্টার মধ্যে শনির আখড়া থেকে গাবতলীতে আমার বাবাকে দিয়ে আসতে পারবেন?  

রোমিও :ধুর, ভালোবাসবা না বললেই হয়।

 

নদীর এপার কহে

প্রথম প্রতিবেশী :ভাই, আপনারা কী সুখী দম্পতি! গভীর রাত পর্যন্ত আপনাদের হাসাহাসি আর ধুপধাপ দৌড়াদৌড়ির শব্দ শুনি।

দ্বিতীয় প্রতিবেশী :যা ভাবছেন, ব্যাপার তা না। বউ যখন রেগে যায়, তখন মার খাওয়ার ভয়ে এ-ঘর ও-ঘর ছোটাছুটি শুরু করি। ওর হাতের ছুড়ে মারা জিনিস আমার গায়ে লাগলে ও হাসে, আর না লাগলে আমি হাসি। ভাইরে, সুখে আছেন তো আপনারা। সারারাত টু শব্দটাও নেই।

প্রথম প্রতিবেশী :তা থাকবে কী করে? আমার বউয়ের নিশানা যে অব্যর্থ। প্রথমবারেই যা ছুড়ে মারে, তাতেই সারারাত দু চোখে তারা দেখি।

 

বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজ

প্রথম দর্শক :আচ্ছা, সিরিজের প্রথম ম্যাচটা আমরা হারলাম কেন?

দ্বিতীয় দর্শক :ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল না বলে।

প্রথম দর্শক :সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটা আমরা হারলাম কেন?

দ্বিতীয় দর্শক :ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল না বলে।

প্রথম দর্শক :তাহলে, সিরিজের শেষ ম্যাচটা?

দ্বিতীয় দর্শক :ওটাতে, ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল বলে।