চিরকুমার কমিটির জরুরি মিটিং

/ তাওহিদুল ইসলাম প্রান্ত

 

আসন্ন ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে চিরকুমার কমিটির জরুরি সভা ডেকেছেন সভাপতি ঝলক ভাই।

কমিটির সবার মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে কর্মপন্থা।

অফিসের নীরবতা ভেঙে ঝলক ভাই গমগমে কণ্ঠে বক্তব্য শুরু করলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন সামনে আসন্ন ভালোবাসা দিবস, আর আমাদের জন্য ‘কালো’ দিবস। অতি দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, প্রতি ভালোবাসা দিবসে আমাদের সংগঠনের সদস্য কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের চিরকুমার কমিটির বিলুপ্ত হয়ে যাবে শীঘ্রই। তাই আমি অনুরোধ করব আজকের এই সভায় কমিটির সবার মতামত পেশ করবেন এই বিষয়ে।’

সাধারণ সম্পাদকের আসন থেকে দাঁড়িয়ে আমি আমার বক্তব্য শুরু করলাম, ‘আমার শ্রদ্ধেয় চিরকুমার ভাইয়েরা, আমাদের কমিটির সদস্য কমে যাওয়ার পরিসংখ্যান বলে আপনাদের মন খারাপ করতে চাই না আমি। কিন্তু এবার সময় হয়েছে সোচ্চার হওয়ার। তাই কমিটিতে আমি এ বিষয়ে কিছু মতামত তুলে ধরছি :

v প্রতি জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রেমিক কাপলদের ব্রেকাপ করতে ‘গিট্টু বাহিনী’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

v দেশের উর্ধ্বগামী জনসংখ্যা রোধে চিরকুমার কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে সরকার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিতে হবে।

v প্রযুক্তির কল্যাণে প্রেমের প্রধান মাধ্যম মোবাইল, তাই সিম কোম্পানি বরাবর কলরেট ও মেগাবাইটের দাম বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে।

v প্রতিটি বিয়ের আসরে কনের এক্স-বয়ফ্রেন্ড সেজে বিয়ে ভাঙতে হবে।

v মানুষের নিকট চিরকুমারদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে হবে।

আমি আমার বক্তব্য লম্বা না করে আপনাদের জানিয়ে যেতে চাই, সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী পৃথিবীর ১ হাজার ৬৪৫ জন কোটিপতির মধ্যে তিন শতাংশ চিরকুমার। তাই হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। এই তালিকায় শীঘ্রই আমাদের যে কারো নাম উঠে যেতে পারে। আলফ্রেড নোবেল, নিউটন, গ্যালিলিও থেকে শুরু করে পৃথিবীর বেশিরভাগ প্রতিভাবানরা ছিলেন চিরকুমার। তাই একদিন উনাদের মতো আমাদের নামও ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে খচিত হবে। কমিটির সবাই টেবিল ছাপড়ে খুশিতে ফেটে পড়ল। সামনের কমিটিতে আমার সভাপতির আসন যে নিশ্চিত, সেটা বুঝে নিয়ে বক্তব্য শেষ করলাম।

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম