বরগুনা জেলা চেম্বার অব কমার্সের আয়োজনে শুরু হওয়া বাণিজ্য মেলার লটারিতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে বরগুনার বেতাগী উপজেলার শত শত সাধারণ মানুষ। লটারির লোভনীয় প্রচারে আকৃষ্ট হয়ে প্রতিদিন টিকিট কিনছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াসহ সব বয়সী লোকজন। এদিকে ৩ ফ্রেরুয়ারি থেকে শুরু এসএসসি পরীক্ষা। তারপরও এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লটারির মাইক। সব মিলিয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ, আতঙ্কিত।
জানা গেছে, ২৪ জানুয়ারি থেকে বরগুনা শহরের পাশে স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় বরগুনা চেম্বার অব কমার্স মাসব্যাপী এই মেলার আয়োজন করে। মেলার মূল আকর্ষণ দৈনিক স্বপ্নতরী লটারি। প্রতিটি লটারি টিকিটের দাম ২০ টাকা। পুরস্কার হিসেবে রাখা হচ্ছে একাধিক মোটরসাইকেল, গাভী, সোনার গয়না, ফ্রিজ, টিভি, মুঠোফোনসহ বিভিন্ন পণ্য। এসবে আকৃষ্ট হয়ে টিকিট কিনতে প্রতিদিন হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। গত ৯ দিন যাবত মাইক প্রচার করে প্রকাশে বিক্রি করা হচ্ছে লটারির টিকিট।
বেতাগী পৌর শহরের হোটেল শ্রমিক মো. ফিরোজ-উর রহমান জানান, এই কদিনে তিনি প্রায় এক হাজার টাকার টিকিট কিনেছেন কিন্তু কোনো পুরস্কার পাননি। একইভাবে উপজেলার ফুলতলা বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, তার ছেলেকে লটারির নেশায় চেপে ধরেছে। প্রতিদিন দুই থেকে তিনশ টাকার লটারির টিকিট কিনছে।
আরও পড়ুন: ঝরা পাতায় হাসিমুখ সালেহা মালেকাদের
একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে জানালেন, সন্তানেরা টিফিনের টাকা দিয়ে খাবার না খেয়ে লটারির টিকিট কিনছে। সামনে এসএসসি পরীক্ষা, লটারির নেশায় সন্তানেরা একরকম ঘোরের মধ্যে আছে।
বেতাগীতে দায়িত্বরত দৈনিক স্বপ্নতরী লটারি টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থাপক আশোক চক্রবর্তী জানান, গত ৮ দিন ধরে প্রায় ৬ থেকে ৭ টি গাড়িতে তারা টিকিট বিক্রি করছেন। প্রতিটি গাড়ি থেকে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার গ্রামগঞ্জেও দেদারে টিকিট বিক্রি চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দা জানান, এভাবে লটারি বিক্রি করা হলেও এখানকার প্রশাসনের নীরবতা রহস্যজনক। জনস্বার্থে এই লটারি বন্ধ করা উচিত। লটারিতে যারা পাচ্ছেন না তাদের মধ্যে হতাশা ও একধরনের সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করছে।
বেতাগী পৌরসভার প্যানেল মেয়র হাদীসুর রহমান পান্না বলেন, এধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করা উচিত।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব আহসান বলেন, লটারির এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অনুমতি না থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসি