তৌহিদ আজিজ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ-সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। বন্ধুরাষ্ট্র ইসরাইলকে তুষ্ট করতে দেশটির প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশে রেখে সম্প্রতি ঐ পরিকল্পনা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা বলছেন, যে শান্তির কথা বলে পরিকল্পনাটি প্রকাশ করা হয়েছে তা আদৌ শান্তি ফিরিয়ে আনবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেননা এরই মধ্যে এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনিরা। তারা বলছেন, এর মাধ্যমে বাস্তবিক অর্থে ইসরাইলের স্বার্থকেই রক্ষা করা হচ্ছে।
এবার দেখা যাক কী আছে বহুল আলোচিত ঐ শান্তি পরিকল্পনায়। হোয়াইট হাউজে সেদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার এই প্রস্তাব ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘শেষ সুযোগ’ হতে পারে। কেননা এটা গ্রহণ করলে তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে। আর বর্জন হলে সমাধানের পথ প্রলম্বিত হবে। শান্তি পরিকল্পনার প্রথমেই তিনি জেরুজালেমকে ইসরাইলের অবিচ্ছেদ্য রাজধানী রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এর সঙ্গে রয়েছে আরো নানা বিষয়। রয়েছে ইসরাইলি অধিবাসীদের নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি। তাই একেবারে জোর গলায় এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের সংকটের কোনো সুরাহা হবে না। বরং সামনে তাদের আরো জটিল অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, এটা নতুন ধরনের একটা ষড়যন্ত্র। যার ষোলোকলা পূর্ণ করার জন্য এই পরিকল্পনার নীলনকশা তৈরি করা হয়েছে।’
কেননা চতুর্দিকে ইসরাইলের ভূখণ্ড দিয়ে ঘেরা থাকবে ফিলিস্তিন। আরো বড়ো বিষয় যে, এখানে আমাদের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনীর থাকার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প এসব বিষয় কোনোভাবে আমলে না নেওয়ায় ফিলিস্তিনিরা এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা নিয়ে সবাই যে নেতিবাচক কথা বলেছে তা নয়। কোনো কোনো দেশ আবার এর পক্ষেও বলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে আলোচনার পথ ফের উন্মুক্ত হলো। দুইপক্ষের সম্মতির মাধ্যমে এর একটা সমাধানের নতুন পথ তৈরি হবে। মিশরও অনেকটা একই সুরে কথা বলেছে। তারা বলেছে, দুই পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান বের করতে। তবে বেশির ভাগ মুসলিম রাষ্ট্রই ট্রাম্পের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে। ইরান বলেছে, এটি ইসরাইল ও আমেরিকার মধ্যে একটি চুক্তি। একে শান্তিচুক্তি বলা হলেও এর মাধ্যমে নতুন করে অশান্তিকে ডেকে আনা হচ্ছে। সর্বশেষ আরব লিগ এ পরিকল্পনা তীব্র সমালোচনা করে এর প্রত্যাখ্যান করেছে। মিসরের রাজধানী কায়রোতে এক জরুরি বৈঠকে বলা হয়, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের কোনো অধিকারই রক্ষা করা হয়নি।