প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ সময়-সুযোগ পেলেই পর্যটনের নেশায় ঘুরে বেড়ায়। বলে রাখা ভালো, যে কোনো দেশের জন্য পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ একটি লাভজনক ব্যাপার। এই সত্য মাথায় রেখেই সমপ্রতি এই শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেন শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী এম এ রশিদ। যিনি তরুণদের সুশিক্ষিত আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক হাতে যেমন প্রতিষ্ঠা করেছেন সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সহ বহুবিধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তেমনি আরেক হাতে তরুণদের জন্য গড়ে তুলেছেন বিশাল কর্মক্ষেত্র— কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স (লি.)। যেখানে নিত্যনতুন ভাবনায় জাহাজ শিল্পের নকশা ও নির্মাণ খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
সমপ্রতি কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন সমুদ্রভ্রমণে বিলাসবহুল জাহাজের যাত্রার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন তিনি। কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স (লি.)-এর উদ্যোগ ও পরিচালনায় এখন থেকে পর্যটকরা সরাসরি কক্সবাজার শহর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনগামী এম ভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস নামের এই বিলাসবহুল জাহাজটি ৩০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নৌ-সচিব এম এ সামাদ। কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়কের বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দাবি দীর্ঘদিনের। অবশেষে এই দাবি পূরণের মাধ্যমে পর্যটকরা কক্সবাজার শহর থেকেই প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। জাহাজটি প্রতিদিন সকাল সাতটায় কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেবে এবং বিকেল তিনটায় ফিরবে। ভ্রমণপিপাসুদের আরামদায়ক ভ্রমণে এবার নতুন সংযোজন এই লিজেন্ডারি নৌযান।
কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স (লি.)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ জানান, ‘এম ভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসকে নিজস্ব ডকইয়ার্ডে একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল জাহাজ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। পুরোপুরি প্রস্তুত নৌযানটি সার্ভিসে যাওয়ার আগে সি ট্রায়ালের অংশ হিসেবে কর্ণফুলী নদী থেকে পতেঙ্গার সমুদ্র মোহনা পর্যন্ত ট্রায়াল সম্পন্ন করে। প্রায় ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১১ মিটার প্রশস্ত নৌযানটিতে মেইন প্রপালেশন ইঞ্জিন হচ্ছে দু’টি। আমেরিকার বিখ্যাত কামিন্স ব্র্যান্ডের একেকটির ক্ষমতা প্রায় ৬০০ বিএইচপি। জাহাজটি ঘণ্টায় প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারে। ১৭টি ভিআইপি কেবিন সমৃদ্ধ এটি। এতে তিন ক্যাটাগরির প্রায় ৫০০ আসন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে কনফারেন্স রুম, ডাইনিং স্পেস, সি ভিউ ব্যালকনি।’
উল্লেখ্য, টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ৪২ কিলোমিটার। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন।