—ঝিম ধরে বসে আছিস কেন? আমার লেখার কতদূর? তিন শ টাকা বিল নিয়ে তো বসে আছি দুইদিন ধরে।
—আরে ধুর! এইমাত্র এক শ টাকা ছিনতাই হয়ে গেল।
—বলিস কী? তোর মতো চালাকের টাকাও ছিনতাই হয়!
—হয় হয়। মেয়েগুলো তো অল্পবয়সী আর দারুণ দেখতে।
—মানে? ছিনতাইকারীরা মেয়ে নাকি?
—হ। মেয়ে।
—মেয়েরা আজকাল ছিনতাই করে! সর্বনাশ!
—আরে বাইদে (বেদে) মাইয়ামানুষ।
—ও! তাই বল। কিন্তু টাকা কাড়ল কী করে?
—শাহবাগের চিপা রাস্তায় তিন-চারটে সুন্দরী অল্পবয়সী বাইদে মেয়ে এসে ঘিরে ধরল। বলল, দশটা টেহা দেও ভাইয়া। আমি ভাবলাম, দশ টাকাই তো মাত্র, তাই মানিব্যাগ বের করলাম।
—ব্যাস। তারপর তোর মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিল?
—আরে না। ওরা আর্ট জানে। আমার মানিব্যাগে ছিল কয়েকটা এক শ আর পাঁচ শ টাকার নোট। তাই দেখে ওদের একজন বলে, ‘ভাইয়া হাতভর্তি খুচরা টাকা, সবাই দশ-পাঁচ টেহার নোট দেয়। এই নব্বই টাকা নিয়া ঐ এক শ টেহা দেও। আমি ভাবলাম, আহা, আমারও তো খুচরা টাকা দরকার। তাই এক শ টাকার নোট দিতেই ছোঁ মেরে নিয়ে বলে ছুঁয়ে দিলাম, টাকা ডাবল হইয়া যাইবো। তখনই আরো তিন-চারজন এসে ঘিরে ধরল, কল-কল কল-কল করতে লাগল। বুঝলাম কেস খারাপ। পারলে গায়ের ওপর এসে পড়ে। বারবার বলছে, ঐ নোটগুলোও দ্যাও, ছুঁইয়ে দিই, ডাবল হইয়ে যাইবে। আমি কোনো রকমে পালালাম।
—আহা! শহরে ভাসমান বেদেদের এখন গলায় দড়ি অবস্থা। অতি চালাক হয়ে গেছে।
—তুই তো বাইদে ভক্ত, বাইদে ভাঙায় খাস, এইটা কেমন কাণ্ড! বাইদে-সংখ্যা করতেছিস!
—ওরা তো ভুল কিছু কয় নাই। তোর টাকা তো ডাবলই হয়ে গেল।
—মানে?
—ঐ যে কইলি তো, বেদেদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা করছি, তোর এই অভিজ্ঞতা লিখে দে। পারিশ্রমিক তিন শ টাকা। এক শ টাকা ওদের কাছে ইনভেস্ট করেছিস, আর টোটালে প্রফিট দুই শ টাকা। পুরাই ডাবল! ... চোখ বড়ো বড়ো করস ক্যান? ওদের কথা ফ্যালনা নাকি? ওরা জাদু জানে!