—জনৈক লেখক
/ মুহা. তাজুল ইসলাম
ঠাট্টা :আপনার লেখালিখির অভিজ্ঞতার কথাটা যদি একটু বলতেন।
লেখক :সেটা তো কিশোরকাল থেকেই। ১২ বছর বয়সে কুলসুমকে লিখে পাঠানো চিঠি দিয়ে শুরু। এর পরে জরিনা, ময়না, টিয়া, আম্বিয়া, মর্জিনা থেকে শুরু করে কতজনকে লেখা পাঠিয়েছি তার হিসেব নেই। আজ বয়স তেতাল্লিশ। এখনো লিখছি।
ঠাট্টা :আসলে চিঠি বা প্রেমপত্র লেখার কথা বলছি না। বই লেখার কথা বলেছিলাম। যাই হোক, এবারের একুশে বইমেলায় আপনার নাকি একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইয়ের নামটা জানতে পারি কি?
লেখক :জি অবশ্যই। বইয়ের নামটি হলো ‘এ জীবন বদনাময়’। সামাজিক রোমান্টিক প্রাকৃতিক উপন্যাস।
ঠাট্টা :পাঠকদের থেকে কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন?
লেখক :অনেক ভালো। এখন পর্যন্ত একদিনেই ২৪৮টা।
ঠাট্টা :তাহলে তো বই বিক্রি বেশ ভালোই বলে মনে হচ্ছে।
লেখক :আরে না! ওটা বিক্রিত বইয়ের সংখ্যা না। ফেসবুকে বইয়ের পোস্টে লাইক-কমেন্টের সংখ্যা।
ঠাট্টা :ও, আচ্ছা। এর আগের প্রকাশিত কয়েকটি বইয়ের নাম বলা যাবে কি?
লেখক : অবশ্যই বলা যাবে। আমার জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে স্যাঁকা খাওয়ার নির্ঘুম দিনগুলো, ফেসবুক চ্যাট সমগ্র, তেলের সেইদিন-এইদিন, প্রেমিকাদের যত স্মৃতি। তবে আমার প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ‘সহমত’ বইটি। এখন পর্যন্ত এক কপি বিক্রি না হলেও তিনটি সংস্করণ বের হয়েছে।
ঠাট্টা :এটা কীভাবে সম্ভব?
লেখক :এদেশে সবই সম্ভব।
ঠাট্টা :আপনি কোন বিষয়ের উপর মূলত লেখালিখি করে থাকেন?
লেখক :আমি তো মাল্টি স্কিল্ড, আমার লেখার বিষয়ের অভাব নেই। ফেসবুক, গুগল, নিউজ-পেপার, টুইটার, বই, নাটক-সিনেমা যেখানে যে লেখা পাই সেখান থেকে কপি করে লিখে ফেলি।
ঠাট্টা :এগুলো বই ছাপায় কারা?
লেখক :বই ছাপানোর প্রকাশকের অভাব নেই। আমি যদি ক-খ-গ-ঘ লিখেও ছাপাতে দেই তবে এসব প্রকাশক লেখা ছাপিয়ে দেবেন। আর এইজন্য আমার লেখার আগে টাকা পাঠিয়ে দিতে হবে। আপনি যদি নিজের নামে কিছু ছাপাতে চান তবে আমাকে বলতে পারেন; ডিসকাউন্টে লেখা ছাপানোর ব্যবস্থা করে দেবো। এটা কোনো সমস্যাই না।