গ্রামের নাম তাইচুং। তাইওয়ানের এই গ্রাম অজস্র রঙিন গল্পে সজ্জিত। এর নেপথ্যে এক বৃদ্ধের অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনি হুয়ান ইয়াং-ফু, বয়স ৯৬ বছর। পুরো গ্রামের চেহারা পাল্টে দেওয়ার পেছনেও বড় কারণ আছে। ১৫ বছর আগে তাইওয়ান সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, তাইচুং-এর সব বাড়ি ধ্বংস করে যুগোপযোগী আবাসন বানানো হবে। ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল সবাইকে। কিন্তু ওই প্রস্তাব মেনে নিতে পারেননি হুয়ান। বরং তিনি তুলি হাতে নীরবে আন্দোলন চালিয়ে যান।
তাইওয়ান সরকারের আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাওয়ার পরপরই হুয়ান ছবি আঁকতে শুরু করেন দেয়ালে। প্রথমে নিজের বাড়ি এবং পরে পুরো গ্রামেই। নিজের বাড়ির গায়ে প্রথমে একটি পাখি আঁকেন হুয়ান। তারপর অন্যান্য পশুপাখিদের ছবি আঁকতে থাকেন। ধীরে ধীরে তার শিল্প প্রসারিত হয় অন্যান্য পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতেও। হুয়ান ইয়াং-ফু বলেন, ‘এক সময় বাইরের মানুষ এখানে আসতো না। নতুনরূপে সাজার পর এখানকার আকর্ষণ যেমন বেড়েছে তেমন পর্যটকরাও গ্রামটি দেখতে নতুন করে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।’
হুয়ানের আঁকা ছবির সঙ্গে সঙ্গে তার জীবন কাহিনিও মুগ্ধ করে পর্যটকদের। এই গ্রাম ভেঙে আবাসন বানানোর পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয় তাইওয়ান সরকার। এই গ্রাম এবং হুয়ানের বাড়ি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, হাসিমুখে জানালেন হুয়ান।