অ্যাওয়ার্ড দিতে ফেসবুকে ভোট!

জুনায়েদ হাবীব

 

বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম! বারো আউলিয়ার নগরী হিসেবেও রয়েছে এর খ্যাতি। রূপ, গুণ, অবদান আর অর্জনে চট্টগ্রাম সবসময়ই ব্যতিক্রম। অর্জনে আর অবদানে সমৃদ্ধ করা মহারথিদের সম্মানিত করার জন্য এক অনন্য ও মহত্ উদ্যোগের নাম বেস্ট অব চিটাগাং অ্যাওয়ার্ড। ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির বিবিএ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী তরুণ উদ্যোক্তা রিয়াদ খান প্রতিষ্ঠা করেন হ্যালো চিটাগং নামের একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক সংগঠন। যার মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রামের গুণীজন, সফল ব্যক্তিত্ব বা সামাজিক অবদানে চাঁটগাকে সমৃদ্ধ করা মানুষজন, সফল উদ্যোক্তা আর চাঁটগা ভাষায় বিনোদনমূলক কন্টেন্ট প্রোভাইডারদের একটি প্লাটফর্মে এনে তাদের সম্মাননা দেওয়ার কথা চিন্তা করেন। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামের কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দরজায় কড়া নাড়লে তারাও মহত্ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে হ্যালো চিটাগংয়ের বেস্ট অব চিটাগাং অ্যাওয়ার্ড আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসে।

প্রথম বর্ষের হ্যালো চিটাগংয়ের সম্মাননা অনুষ্ঠান ছিল ক্ষুদ্র পরিসরে। যেখানে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় চট্টগ্রামের কয়েকজন সফল উদ্যেক্তা ও সংগঠকদের। এরপর ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও করা হয় যথারীতি এ আয়োজন। হ্যালো চিটাগংয়ের নিজস্ব ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মাসব্যাপী নির্বাচন করা হয়। পরে বেশিসংখ্যক ভোট গণনার মাধ্যমে ৩ জন সেরাদের দেওয়া হয় নমিনেশন। সেখান থেকে হ্যালো চিটাগংয়ের গ্র্যান্ড অডিশন বেস্ট অফ চিটাগং অ্যাওয়ার্ডের বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিচারক প্যানেলের বাছাই পর্বে প্রত্যেক ক্যাটাগরির সেরা ৩ থেকে ১ জনকে বেস্ট অব চিটাগাং অ্যাওয়ার্ডটি প্রদান করা হয়।

হ্যালো চিটাগংয়ের প্রতিষ্ঠাতা রিয়াদ খান বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রামে অসংখ্য প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যাদের এমন একটি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া অনেকটা কঠিন বিষয় ছিল। প্রথমবর্ষে একটু ক্ষুদ্র পরিসরে আয়োজন করলেও পরের বছর থেকে পুরো চট্টগ্রামে আমাদের এই আয়োজন বেশ সাড়া পায়। যার কারণে পরের বছর থেকে আমাদের আয়োজনটি বৃহত্ পরিসরে করতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত আমরা এর ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। আর এমন একটি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করার অর্থ বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে তাদেরকে এগিয়ে নেওয়া।’

বেস্ট ফেসবুক পেজ ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পাওয়া আসিফ আহম্মেদ শোভন বলেন, ‘বেস্ট অফ চট্টগ্রাম অ্যাওয়ার্ড, যার মানেই হচ্ছে চট্টগ্রামের সেরাদের সম্মাননা প্রদান করা। আর এই সম্মাননায় চট্টগ্রামের সেরা ফেসবুক পেজ ক্যাটাগরিতে আমি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি এটা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।’

২০২০ সালের হ্যালো চিটাগংয়ের বেস্ট অব চিটাগাং অ্যাওয়ার্ড-এর জমকালো আসর বসেছিল চট্টগ্রাম নগরীর তারকা হোটেল চিটাগং ক্লাবের ব্যাংকুইট হলে। গত ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে আরাফাত রূপকের উপস্থাপনায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের স্বনামধন্য ফ্যাশন ডিজাইনার রওশন আরা চৌধুরী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সাফিয়া গাজি রহমান, চট্টগ্রাম ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনজুরুল হক ও র্যাংকস এফসি প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর শাহরিয়ার রিমন।

বেস্ট সোশ্যাল অর্গানাইজেশন, বেস্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, বেস্ট ক্যাফে, বেস্ট রেস্টুরেন্ট, বেস্ট ইয়াং ফ্যাশন ডিজাইনার, বেস্ট কনটেন্ট ক্রিয়েটর, বেস্ট লেডিস পার্লারসহ সর্বমোট ১৬ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এবার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

সফল বাণিজ্যিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস এম আবু তৈয়ব। তরুণ সফল উদ্যোক্তা হিসেবে বেস্ট এন্টারপ্রেণার অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ।

বেস্ট সোশ্যাল অর্গানাইজেশ (ব্লাড), সিটিজি ব্লাড ব্যাংক, বেস্ট সোস্যল অর্গানাইজেশন (সোশ্যাল) এক টাকার শিক্ষা, বেস্ট ক্যাফে সেইন্টস ক্যাফে, বেস্ট রেস্টুরেন্ট দাওয়া, বেস্ট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ক্লাউডওয়ান, বেস্ট ইয়াং ফ্যাশন ডিজাইনার মশিউর রহমান নিহাল, বেস্ট কনটেন্ট ক্রিয়েটর দিহান চৌধুরী, বেস্ট ডিজে সিটিসি বান্টি, বেস্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম (ওয়েডিং) ক্রিয়েটিভ হাউস, বেস্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম (কর্পোরেট) পিটুপি কমিউনিকেশন, বেস্ট ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ফার্ম আর্টল্যান্ড, বেস্ট ফেসবুক পেজ চিটায়ঙ্গে বুলেট, বেস্ট লেডিস বিউটি পার্লার আর্ট অ্যান্ড বিউটি সেলুন বাই আলিফা নুর, বেস্ট মেহেদি আর্টিস্ট মেহেদি আর্ট বাই জিনিয়া, বেস্ট হোমমেড কেক বেকার সুমাইয়া ড্রিম বেক, বেস্ট গার্লস গ্রুপ ওমেন্স পাওয়ার (নারী শক্তি)।

এছাড়া অনুষ্ঠানে মিস্টার বাংলাদেশ খেতাব প্রাপ্ত মেহেদি হাসান ফাহিমকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।