বিজ্ঞান
সুপ্রিয় বন্ধুরা, বছরের প্রথম থেকেই একটু একটু করে বুঝে বুঝে পড়। তাহলে পরীক্ষায় সব প্রশ্ন তোমার জন্য সহজ হয়ে যাবে।
১. খাদ্য শৃঙ্খলে কীভাবে সাপ এবং ঈগল একই রকম তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর :আমরা জানি যে, সূর্যশক্তি খাদ্যের মাধ্যমে একজীব হতে অপরজীবে স্থানান্তরের ফলে যে শৃঙ্খল গঠিত হয় তাই খাদ্য শৃঙ্খল। এখানে সাপ ও ঈগল খাদ শৃঙ্খলের অন্যান্য নিচু শক্তির প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। যেমন— ঈগল ব্যাঙ, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি ও অন্যান্য প্রাণী খেয়ে থাকে। অনুরূপভাবে সাপও ব্যাঙ, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি ও অন্যান্য প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। তাই একটি খাদ্যশৃঙ্খলে সাপ এবং ঈগল একই রকম।
২. নিচের শব্দগুলো নিয়ে গঠিত খাদ্য শৃঙ্খলের সঠিক ক্রম ব্যাখ্যা কর।
ঈগল, সূর্য, ঘাস, পোকামাকড়, সাপ, ব্যাঙ
উত্তর :বাস্তুতন্ত্রের দুটি জীব উপাদান হলো উত্পাদক ও খাদক। সবুজ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে বলে তাদেরকে উত্পাদক বলা হয়। প্রাণীরা খাদ্য উত্পাদন করতে পারে না। এরা খাদক হিসেবে বিবেচিত। ঈগল, সূর্য, ঘাস, পোকামাকড়, সাপ, ব্যাঙ শব্দগুলো নিয়ে গঠিত খাদ্যশৃঙ্খলটি হলো—
সূর্যc ঘাস c পোকামাকড়c ব্যাঙ c সাপ c ঈগল
সকল শক্তির উত্স সূর্য। এই শক্তি উত্পাদকের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের খাদকের দেহে পর্যায়ক্রমে সঞ্চারিত হয়। ঘাস সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে, পোকামাকড় ঘাস ও অন্যান্য উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে, ব্যাঙ পোকামাকড় খায়। একইভাবে সাপ ব্যাঙ খায় এবং ঈগল সাপ খায়। এভাবে খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে শক্তি প্রবাহ সূর্য থেকে ঈগল পর্যন্ত সঞ্চারিত হয়।
৩. বায়ুর উপর জীব কীভাবে নির্ভরশীল তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বেঁচে থাকার জন্য জীব পরিবেশের বিভিন্ন জড় উপাদানের উপর নির্ভরশীল। জীবের অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষ, অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদ আর বায়ু গুরুত্বপূর্ণ একটি জড় উপাদান। বায়ুতে রয়েছে অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন ইত্যাদি গ্যাসীয় পদার্থ। বায়ুর এই উপাদানগুলোর জন্যই জীব বায়ুর উপর নির্ভরশীল। যেমন—
প্রতিটি জীবের শ্বসন তথা শ্বাসের জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন। শ্বসনের ফলে উত্পন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুতে নির্গত হয়।
সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে বায়ুস্থ কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করে।
বায়ুতে থাকা নাইট্রোজেনও উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
৪. উদ্ভিদের জন্য বীজের বিস্তরণ বীজের বিস্তরণ কেন গুরুত্বপূর্ণ তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : নতুন নতুন উদ্ভিদ আবাস গড়ে তোলার জন্য উদ্ভিদের বীজের বিস্তরণ গুরুত্বপূর্ণ।
মাতৃউদ্ভিদ থেকে বিভিন্ন স্থানে বীজের ছড়িয়ে পড়াই হলো বীজের বিস্তরণ। এ কাজে বিভিন্ন প্রাণী, যেমন— মানুষ, পাখি এবং জড় উপাদান, যেমন— বায়ু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বীজের বিস্তরণের ফলে নতুন পরিবেশে অঙ্কুরিত হওয়া চারা সেখানকার পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হয়।
৫. তোমার টেবিলের উপরে রাখা গাছটি মারা যাচ্ছে। তোমার বন্ধুরা গাছটিকে জানালার পাশে নিয়ে রাখার পরামর্শ দিল। কেন ?
উত্তর : আমার টেবিলের উপরে রাখা গাছটি মরে যাওয়ায় আমার বন্ধুরা আমাকে গাছটি জানালার পাশে রাখার পরামর্শ দিল। এর কারণ হলো ঘরের টেবিলের উপর রাখা গাছটি বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সূর্যের আলো পায় না। তাই গাছটি সূর্যের আলোর অভাবে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তার জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে না। এই খাদ্যের অভাবে গাছটি মারা যাচ্ছিল।
এমতাবস্থায় গাছটিকে জানালার পাশে আনলে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাবে। এই সূর্যের আলো ব্যবহার করে সে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারবে। ফলে গাছটির বৃদ্ধি স্বাভাবিক হবে এবং গাছটি সতেজ থাকবে।
৬.মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কীভাবে জড় বস্তুর উপর নির্ভরশীল তা পাঁচটি বাক্যে লেখ।
উত্তর : অন্যান্য প্রাণীর মতো মানুষও বেঁচে থাকার জন্য জড় বস্তুর উপর নির্ভরশীল। নিচে এ নির্ভরশীলতা আলোচনা করা হলো—
১.মানুষ তার শ্বাসকার্য সম্পাদনের জন্য বায়ুতে বিদ্যমান অক্সিজেন ব্যবহার করে।
২.মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য পানি পান করতে হয়।
৩.মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পুষ্টি ও খাবার প্রয়োজন।
৪.মানুষ ফসল ফলায় ও বাসস্থান নির্মাণ করে যার জন্য মাটির প্রয়োজন।
৫. এছাড়া জীবনযাপনের জন্য বাসস্থান আসবাবপত্র, পোষাক, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি প্রয়োজন হয় যা সাধারণত জড়বস্তু।