যে কারণে বিদেশী শিক্ষার্থী কম

মাইজু আনিকা হেইক্কেইনেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী। ফিনল্যান্ডের তিপালসারীর এ বাসিন্দা বাংলাদেশে অধ্যয়নকালীন বিভিন্ন অভিজ্ঞতা

তুলে ধরেছেন। আর লিখছেন— জিএম

ইমরান হোসেন

মাইজু আনিকা

আমি পৃথিবীর ১৩টা দেশ ভ্রমণ করেছি। কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কিংবা সহমর্মীতার দিক দিয়ে বাংলাদেশকে আমার কাছে অনন্য মনে হয়েছে। কেননা, এখানকার মানুষগুলো অনেকবেশি বন্ধুত্বপূর্ণ, পারিবারিক সম্পর্ক অনেকবেশি শক্তিশালী, মানুষগুলো শারীরিকভাবে অনেকবেশি পরিশ্রমী, তাছাড়া এখানকার গরিব মানুষরাও অনেকবেশি সুখী। কথাগুলো বলছিলেন, শাবির এ শিক্ষার্থী।

তবে র্যাংকিংয়ে প্রথমদিকে থাকা সত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিদেশি শিক্ষার্থী কম থাকার কারণ সম্পর্কে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগেই বাংলা মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হয়। তাছাড়া, বিদেশি শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য আন্তর্জাতিকমানের কোনো আবাসিক হল নেই। এমনকি তাদের জন্য কোনো বাজেটও নেই। এজন্য এ সমস্যাগুলো কাটিয়ে বিশ্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগতমান বেশি করে তুলে ধরতে হবে।

অধ্যয়নরত বিভাগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কটা অনেকবেশি বন্ধুত্বপূর্ণ। তবে মেয়েরা অনেকটা কর্মবিমুখ এমনকি তারা কোনো ধরনের খেলাধুলায়ও আগ্রহী নয়। শিক্ষার্থীরাও গ্রুপস্ট্যাডি এবং লাইব্রেরিভিত্তিক পড়াশোনায় আগ্রহী নয়। তবে এজন্য বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও উপযুক্ত নির্দেশনার মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

প্রায় ১৪ মাস ধরে পরিবারের পাঁচ সদস্য রেখে বাংলাদেশে অবস্থানকালীন দিনগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, নানান শ্রেণির মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সুস্বাদু খাবার ও কম খরচে জীবননির্বাহ সবমিলিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি।

লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে ভবিষ্যত্ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, সারাজীবন লেখাপড়ার সঙ্গেই থাকতে চাই। আর একটা ভালো চাকরি ও সারা পৃথিবী ভ্রমণের স্বপ্ন দেখি।