কুরআন কেন বিস্ময়কর ও বিজ্ঞানময় গ্রন্থ

আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকে সুপথগামী করার জন্য যুগে যুগে নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সাপেক্ষে কিতাব বা সহিফা অবতীর্ণ করেন, যার সবগুলোই ছিল বিজ্ঞানময় ও হিকমতে পরিপূর্ণ। এই সবকিছুর পেছনে একটাই উদ্দেশ্য, তা হলো মানব জাতিকে হেদায়েত ও সত্পথে পরিচালিত করা। কালের আবর্তে মানুষ যত ধরনের বিজ্ঞানের যুগে নিজেদের অধিষ্ঠিত করুক না কেন, কুরআন যে বিজ্ঞানের অসীম সমুদ্রের কেন্দ্রবিন্দু, তা সহজেই অনুমেয়। কেননা, আল্লাহ নিজেই বলেন :

১. ইয়াসিন, কুরআন বিজ্ঞানময় ঐশীবাণী। (সুরা ইয়াসিন :১-২)। ২. আলিফ-লাম-র; এটি একটি গ্রন্থ, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন পরাক্রান্ত, প্রশংসার যোগ্য পালনকর্তার নির্দেশে তারই পথের দিকে’। (সুরা ইবরাহিম,আয়াত :১) সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম যে কুরআন বিজ্ঞানময় এবং আমাদের জন্য অবশ্যই হেদায়েতের বার্তা। এখন আসুন আমরা একটু বিশ্লেষণ করে দেখি যে কুরআন আমাদের কী বোঝাতে চাইছে আর কখনো কি আমরা এমনভাবে দেখেছি :১. আল্লাহ সুরা বাকারায় ইরশাদ করেন :‘আল্লাহ পাক নিঃসন্দেহে মশা বা তদূর্ধ্ব বস্তু দ্বারা উপমা পেশ করতে লজ্জাবোধ করেন না।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত :২৬)

অনেকেই ভাবতে পারেন, এখানে এমন কী আছে ভাবার মতো?  হ্যাঁ আছে, বাংলা ভাষার যেমন পুংলিঙ্গ-স্ত্রীলিঙ্গ রয়েছে, আরবি ভাষায়ও তাই। এখানে মশা শব্দটা স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে (বাউদা)। কিন্তু কেন স্ত্রীলিঙ্গ  ব্যবহার করেছেন? বিজ্ঞান কিছুদিন আগে মাত্র প্রমাণ করেছে, আমাদের শরীর থেকে রক্ত যে খায়, সেটা স্ত্রী মশা। তাছাড়া আরো অবাক করা বিষয় হচ্ছে, আল্লাহ এখানে আরো বলেছেন যে তদূর্ধ্ব বস্তু। বিজ্ঞান আরো প্রমাণ করেছে যে ফ্লাইং পেরাসাইট (Flying Perasite) বলে একটি প্রাণী আছে, যেটা মশা থেকে রক্ত শোষণ করে আর মশা তার বংশবিস্তারের প্রয়োজনে আমাদের থেকে রক্ত শোষণ করে। আল্লাহ কিন্তু এখানে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করেন নাই, আবার মশা শব্দটা ব্যবহারের আগে ফ্লাইং পেরাসাইটের কথাও আগে নিয়ে আসেননি। সুবহানাল্লাহ! কত বড়ো প্রজ্ঞাময় আমাদের স্রষ্টা। কত নিখুঁতভাবে কুরআনকে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন তিনি। তাই আল্লাহ স্বয়ং নিজেই কুরআনের প্রতি তাদাব্বুরের (গবেষণা) উত্সাহ প্রদান করে বলছেন :‘এরা কি লক্ষ করে না কুরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেতে। (সুরা আন নিসা, আয়াত :৮২)। তাই আসুন, আমরা সবাই কুরআন নিয়ে গবেষণা ও চিন্তা করি। কারণ কুরআনের প্রতিটি আয়াতের মধ্যে আছে হিকমত ও বিজ্ঞান, যা আপনাকে সত্য বুঝতে সহায়তা করবে এবং ইমানকে আরো মজবুত করে দেবে ইনশাআল্লাহ।

 লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়