নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে বাড়তি ফজিলত ও গুরুত্ব রয়েছে। এর বিশেষত্ব হয়তো আমরা অনেকে পুরোপুরি জানি না। যদি মানুষ নামাজের মধ্যে প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর ফজিলত সম্পর্কে পুরোপুরি জানত, তাহলে প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর জন্য পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো, দেখা যেত শেষ পর্যন্ত প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর জন্য লটারি করতে হতো। নামাজের মধ্যে যে বা যারা প্রথম কাতারে দাঁড়ায়, হযরত রাসুল (স) তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করেন। যাদের জন্য স্বয়ং হযরত রাসুল (স) মাগফিরাত কামনা করেন, তার বা তাদের জন্য পরকালীন জীবন নিঃসন্দেহে সুখময় হবে। আজাব-গজবের কোনো ভয়-ভীতি থাকবে না। হযরত ইরযাব ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, হযরত রাসুল (স.) প্রথম সারির জন্য তিন বার মাগফিরাত চাইতেন এবং দ্বিতীয় সারির জন্য এক বার মাগফিরাত চাইতেন। (ইবনে মাজাহ :১/৯৯৬)।
আল্লাহ রহমানুর রাহিম। আল্লাহতায়ালার দয়া-রহমত সর্বত্রই রয়েছে। তার দয়া-রহমতের বাইরে কেউ নেই। তবে যারা নামাজ আদায় করেন এবং সত্কর্ম করেন, আল্লাহতায়ালার রহমত তাদের নিকবর্তী থাকে। আর নামাজের মধ্যে যে বা যারা প্রথম কাতারে দাঁড়ান, তাদের ওপর আল্লাহতায়ালা বেশি বেশি রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। তাই নামাজ আদায়ের সময় প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে। হযরত বারা ইবনে আযিব (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি রাসুল (স)কে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তার ফেরেশতারা প্রথম সারির প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ :১/৯৯৭)। যেহেতু নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রে প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে মাগফিরাত ও আল্লাহতায়ালার বিশেষ রহমত রয়েছে, তাই আজানের ধ্বনি কানে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে কালবিলম্ব না করে মসজিদে গিয়ে প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। তাহলে আল্লাহর রহমত-বরকত আমাদের নিকটবর্তী থাকবে। হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসুল (স) বলেছেন, লোকেরা যদি প্রথম সারিতে কী আছে তা জানত, তবে এর জন্য তারা লটারি করত (ইবনে মাজাহ :১/৯৯৮)।
নামাজ আদায়ের সময় প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা করা যাবে না। কোনো প্রকার আলস্য প্রদর্শন করা যাবে না। আমরা যদি নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অবহেলা বা আলস্য প্রদর্শন করি, তাহলে আখিরাতে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। নামাজে আলস্য প্রদর্শন করা মুনাফিকের কাজ। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকেরা আল্লাহর সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে, তিনি তাদের ধোঁকায় ফেলে শাস্তি দেন এবং তারা যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন আলস্যভাবে দাঁড়ায়, লোক দেখানোর জন্য, তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে’ (সুরা নিসা :১৪২)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘অতত্রব, দুর্ভোগ সেই সব সালাত আদায়কারীর, যারা নিজেদের সালাত আদায়ে অমনোযোগী’ (সুরা মাউন :৪-৫)। নামাজে প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের আরো মনোযোগী হতে হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে প্রথম কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
লেখক :ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক