গুটি বসন্তের দিনগুলি!

/ কাজী সুলতানুল আরেফিন

 

সবাই বসন্তের প্রতীক্ষায় থাকে। আমাকে বসন্তের জন্য মোটেই প্রতীক্ষা করতে হয়নি। বসন্ত এসে আমাকে চেপে ধরেছিল। সারা শরীর আর মুখজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গিয়েছিল। নাম তার গুটি বসন্ত! তখনও ফাল্গুন মাস ছিল। এ বসন্তের কারণে নাহিদার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারছিলাম না। গুটি বসন্তের ছোঁয়ায় আমার চেহারা বদলে গিয়েছিল। তাই ভেতরে ভেতরে শরমে মরে যাচ্ছিলাম।

আমার এ অবস্থা দেখে নাহিদা দূর থেকে তালি বাজিয়ে দাঁত কেলিয়ে হেসে যাচ্ছিল। অনবরত আমার কাটাগায়ে নুনের নয় সরাসরি মরিচে জ্বালা দিয়ে যাচ্ছিল। তার এমন অপমানের যন্ত্রণায় আমি প্রায় সপ্তাহখানেক ঘর থেকে আর বের হইনি। বিধির রীতি খণ্ডানো যায় না। গুটি বসন্ত যখন আমার সাথে ব্রেকআপ করে চলে গেল তখন থেকে নাহিদাকে আর ঘরের বাইরে দেখতে পেলাম না।

উঁকিঝুঁকি মেরে বোঝার চেষ্টা করতে লাগলাম বেচারির আবার কী হলো! আবার চিন্তাও হচ্ছিল যে আমার গুটি বসন্তের সুযোগ নিয়ে তার পরিবার তাকে অন্যত্র বিবাহ দিয়ে ফেলল না-তো? আর বিবাহ দিয়ে দিলেই কি আমি মানব নাকি? আমি হিসেব করে রেখেছি তার জীবনের এখনো আঠারো বসন্ত পার হয়নি। সবে ষোলো বসন্ত পার করেছে বেচারি। আমি প্রস্তুতি নিয়েই ছিলাম! তার পরিবার যদি কোনো অপকর্মের চেষ্টা করে তবে বাল্যবিবাহের আইনে মামলা ঠুকে দেবো। প্রয়োজনে ‘৯৯৯’ নম্বরে কল দেবো! শুনিয়ে শুনিয়ে কয়েকবার হুমকিও দিয়েছিলাম। এখন আবার আমার অসুখের সুযোগ নিয়েছে কি না জানতে হবে।

এসব চিন্তা করতে করতে তাদের ঘরের অন্দরে গিয়ে প্রবেশ করলাম। একি! আমার চক্ষু ছানাবড়া! নাহিদা বেগম বিছানায় শোয়া। সারা শরীর চাদর দিয়ে ঢেকে রেখেছে। আমি যেতেই উঠে বসল। তারপর কাচুমাচু করতে লাগল।

আমি আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে অট্টহাসি দিয়ে বললাম, তাই তো বলি, আমার গুটি বসন্তগুলো ব্রেকআপ করে কার কাছে চলে গেলো!

আমি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, এ হলো তোমার দাঁত কেলানোর শাস্তি!’

পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী।