/ জহিরুল কাইউম ফিরোজ
করপোরেট চাকরিজীবীরা নিট অ্যান্ড ক্লিন থাকেন। দাড়ি-গোঁফের বালাই থাকে না তাদের। বসের কড়া হুকুম, পরিপাটি থাকতে হবে। করপোরেট চাকরিজীবীদের মতোন কবি-সাহিত্যিকদেরও যদি তাদের প্রকাশকরা বলতেন, দাড়ি-গোঁফ রাখলে আপনার বই প্রকাশ করা হবে না, তাহলে কেমন হতো? চলুন কল্পনা করে আসা যাক—
K রবীন্দ্রনাথের মস্ত দাড়ি, নজরুলের চুল, শেক্সপিয়রের অমন চুল-দাড়ি থাকত না। তারা কাঁধে ঝোলার বদলে শার্ট-প্যান্ট ইন করে চুলে আর্মি কাটিং দিয়ে স্টলের সামনে দাঁড়াতেন।
K দিন বদলালেও কবি বলতে আমরা সেই গালভর্তি দাড়ি, ঘাড় অব্দি চুল, কাঁধে ঝোলাওয়ালা কাউকেই কল্পনা করি। কবি সাহেব যখন ইস্ত্রি করা জামা পড়ে হাঁটবেন, তখন পাশ দিয়ে কেউ একজন প্রচণ্ড গতিতে সাইকেল চালিয়ে গেলে কবি কাব্যিক ভাষায় খেঁকিয়ে উঠবে, ‘ব্যাটা জামাটা করে দিলি নষ্ট, ইস্তিরি করতে হয় রে কষ্ট’।
K এই যুগে দাড়ি একটা ট্রেন্ড। ফ্যাশনের অনুষঙ্গ। হয়ত নতুন কোনো লেখক সেটিকে পুঁজি করে বই লিখছে, ‘দাড়ি গজানোর সহজ টোটকা’ শিরোনামে। যখন জানতে পারবে, দাড়িতে প্রকাশকের সমস্যা, তখন সে নাম বদলে ফেলবে। নতুন নাম দেবে, ‘এ জগতে হায় গোঁফ-দাড়ি ছাড়াও কবি হওয়া যায়’।
K ট্রিমার, শেভিং ফোম কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপন দেবে। আমাদের ফোম দিয়ে শেইভ করে, ট্রিমার দিয়ে দাড়ি-গোঁফ কামিয়েই আজ অমুক মস্ত বড়ো লেখক হয়েছে। তমুক বেস্ট সেলারের তকমা পেয়েছে। এবার আপনার পালা...।