ইরাকের বর্তমান সংকটের নেপথ্যে পানি

এম এ আলআমিন

 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত-বিক্ষুব্ধ দেশ ইরাকে ১৯ সালের অক্টোবরের প্রথম থেকে চলছে বিক্ষোভ। এবারের বিক্ষোভের কারণ সরকারের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং ইরানের মাত্রা ছাড়া হস্তক্ষেপ। বিক্ষোভ মূলত রাজনৈতিক। তবে এর জন্য সামাজিক বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতা ছাড়া অন্য কারণও রয়েছে। এ রকম একটি কারণ হলো পানি।

ইরাকে পানির প্রায় ৭০ শতাংশ বাইরে থেকে বিশেষ করে তুরস্ক ও ইরান থেকে আসে। ইরাকের দুটি প্রধান নদী দজলা ও ফোরাত। গত ৫০ বছরে নদী দুটিতে পানি প্রবাহ প্রায় ৮০ ভাগ কমে গেছে। তারপরও যতটুকু পানি রয়েছে এর সিংহভাগ ব্যবহূত হচ্ছে কৃষিকাজে। ৩ কোটি ৮০ লাখ জনঅধ্যুষিত দেশটির ১ কোটি ৩০ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। ১৯৭০-এর দশকে তুরস্ক সাউথ ইস্টার্ন আনাতোলিয়ান প্রকল্প (তুরস্কে যেটি জিএপি নামে পরিচিত) গ্রহণের পর ইরাকে পানি প্রবাহ কমে যায়। তুরস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে দেশটি কুর্দি জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। কুর্দিরা মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে। বিষয়টি ইরাকের মতো তুরস্কও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে। তবে পানির সুষম বন্টন নিয়ে তুরস্ক, সিরিয়া ও ইরাক ১৯৬০-এর দশক থেকে কাজ করছে।

অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের পর ইরাকের সঙ্গে তাদের পানি বন্টনের বিষয়টি থমকে গেছে। ইরান থেকে ইরাকের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত কার্ক ও কারুন নামে দুটি নদীতে পানি নেই বললেই চলে। ইরান বাঁধ দিয়ে নদী দুটির পানি অন্যদিকে সরিয়ে নিয়ে গেছে। ইরাকের পানিসম্পদ মন্ত্রী হাসান জানাবি সম্প্রতি বলেছেন, তুরস্ক ও ইরানের জন্য তার দেশের পানি প্রবাহ ৪০ ভাগ কমেছে। ২০৫০ সাল নাগাদ ইরাকের জনসংখ্যা ৭ কোটি হবে। পানির চাহিদা তখন বর্তমানের দ্বিগুণ হবে। কিন্তু পানি সরবরাহ নিশ্চিত না করা গেলে শুধু এ কারণেই সংকট ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তেহরান ও বাগদাদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত কোনো পানি বন্টন চুক্তি নেই। তবে আঙ্কারার সঙ্গে জুলাই থেকে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এ অঞ্চলে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক সরকারের অনুপস্থিতি সংকটকে কেবল প্রলম্বিত করছে।