ঝিনাইদহ-৩: নৌকার শফিকুলের বিরুদ্ধে লড়ছেন ধানের শীষের মতিয়ার

ঝিনাইদহ-৩ আসনে (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা) ভোটযুদ্ধ হবে নৌকা ও ধনের শীষের মধ্যে। এ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চল। আর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জামায়াতের ঝিনাইদহ জেলা সেক্রেটারি ও দলের সুরা সদস্য মো. মতিয়ার রহমান। এ আসনে আরও প্রার্থী আছেন জাতীয় পর্টির ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান স্বাধীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সারোয়ার হোসেন ও সতন্ত্র প্রার্থী ইসমাইল হোসেন।

প্রচারণার শুরুতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী জোরেসোরে নামেন। দলে গ্রুপিং থাকলেও তারা ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রচরণা চালাচ্ছেন। মনোমালিন্য মুছে বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ নবী নেওয়াজ শফিকুল আজম খান চঞ্চলের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে ভোট ভিক্ষা করছেন। নির্বাচিত হওয়ার জন্য নানান প্রতিশ্রুতির আশ্বাস দিচ্ছেন। আর সে সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলের গত ১০ বছরের উন্নয়নের কথা তুলে ধরছেন। সর্বত্র উড়ছে নৌকার পোস্টার। বিভিন্ন স্থানে নজরে পড়ছে তাদের নির্বাচনী অফিস। সন্ধ্যার পর অফিসগুলো নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে ওঠে।
 
অপরদিকে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রকাশ্য প্রচারণা কোথাও নজরে পড়ে না। ২০১৪ সালের পর প্রার্থী  মো. মতিয়ার রহমানকে প্রকাশ্যে দেখা যায় নি। তবে তিনি অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান দু’জনই জামায়াতের। এ আসনে তাদের ভিতও শক্ত। তারা গোপন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের নেতাকর্মীরা রাতে ভোটারদের বাড়িবাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। নারী কর্মীরা মাঠে নেমেছেন। প্রার্থী মতিয়ার রহমানের মাথায় দুই ডজনের বেশি নাশকতার মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা তার মাথার উপর রয়েছে। এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের প্রচারনাও নজরে পড়ে না। 

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬০ হাজার ৯২০ জন।  ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এ আসানে জয়ী হন আওয়ামী লীগের ময়েনউদ্দিন মিয়াজী। ১৯৭৯ সালে জয়ী হন আইডিএল’র মাওলানা মোজাম্মেল হক, ১৯৮৬ সালে  মাওলানা মজাম্মেল হক ( জামায়াত), ১৯৮৮ নালে শামসুল হদা থান ( জাতীয় পার্টি ), ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি’র শহিদুল ইসলাম মাস্টার, ২০০৮ শফিকুল আজম খান চঞ্চল (আওয়ামী লীগ) এবং  ২০১৪ সালে অধ্যক্ষ নবী নেওয়াজ (আওয়ামী লীগ) নির্বাচিত হন। 

ইত্তেফাক/এমআই