মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক
শৈশবে সাদিয়া হকের স্বপ্ন ছিল ঘুরে বেড়ানোর। তাই ঠিক করেছিলেন বড়ো হলে বিমানের কেবিন ক্রু হবেন। জীবনের নানা বাঁক সেই ইচ্ছা পূরণ হতে না দিলেও ভ্রমণের ইচ্ছে তিনি ঠিকই পূরণ করে চলেছেন। বাংলাদেশের প্রথম ট্র্যাভেল অ্যাপ ‘শেয়ার ট্রিপ’ চিফ কর্মাশিয়াল অফিসার (সিসিও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। সাদিয়ার বেড়ে ওঠা ঢাকায় হলেও ভ্রমণপিপাসু মায়ের সঙ্গে ছোটোবেলায়ই ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশ-বিদেশ। ঢাকার ম্যাপেল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে এ-লেভেল শেষ করে ভর্তি হন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে। ২০০৭ সালে মার্কেটিং অ্যান্ড এইচআরএম থেকে বিবিএ শেষে মার্কেটিং কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট হিসেবে যোগদান করেন গ্রামীণফোনে। চাকরিরত অবস্থায়ই শেষ করেন এমবিএ। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ক্যাম্পেইন ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ট্রাস্টে। একই বছরের মার্চে চাকরি পরিবর্তন করে মোবাইল কোম্পানি নোকিয়াতে মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ঐ বছরই সেপ্টেম্বরে তিনি বাংলালিংকের ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। প্রায় চার বছর এই দায়িত্ব পালন করে ২০১৭ সালে স্বামী কাশেফ রহমানের গড়া বাংলাদেশের প্রথম ট্র্যাভেল অ্যাপ শেয়ার ট্রিপের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার (সিসিও) হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি শেয়ার ট্রিপের মার্কেটিং, কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্স, কাস্টমার সার্ভিস এবং এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন ডিপার্টমেন্টস দেখাশোনা করছেন। শেয়ার ট্রিপে যোগদানের পেছনের গল্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আর আমার হাজবেন্ড যখন চাকরি করেছি, সে সময় ট্র্যাভেলিংয়ের বিভিন্ন অফার এলেই ঘুরে আসতাম বিভিন্ন দেশ। দেখা যেত বিভিন্ন সময় বন্ধু-বান্ধব কিংবা সহকর্মীরা ভ্রমণের বিষয়ে জানতে চাইত। তখনই আমরা চিন্তা করি কীভাবে ভ্রমণকে আরো সহজ করা যায়। সে থেকেই প্রথমে আমরা ট্র্যাভেল বুকিং বিডি নামের একটি ট্র্যাভেল এজেন্সি গড়ে তুলি। পরবর্তীকালে এর নাম হয় শেয়ার ট্রিপ।’দীর্ঘ চাকরি জীবন ছেড়ে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছোটোবেলা থেকেই আমার ভ্রমণ করার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পড়াশোনা ও পরিবারের চাপে তেমনভাবে হয়ে ওঠেনি। পরবর্তীকালে চাকরি আর নিজের পরিবার সামলাতেই সময় চলে যেত। ইচ্ছা থাকলেও বছরে এক-দুবারের বেশি ভ্রমণে যেতে পারিনি। আর এখানে যেহেতু ভ্রমণ নিয়েই সবকিছু করা হয়, সেজন্য ঐ সমস্যাটা আর হবে না। তাই এখানে আসা।’ বর্তমান কর্মস্থলের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘শেয়ার ট্রিপ বাংলাদেশের একটি এন্ড টু এন্ড ট্র্যাভেল সার্ভিস প্ল্যাটফরম, যার নিজস্ব একটি মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। এটি দেশের সর্বপ্রথম স্বয়ংসম্পূর্ণ ট্র্যাভেল অ্যাপ। শেয়ার ট্রিপ গ্রাহকদের বিশ্বমানের ট্র্যাভেল বুকিং অভিজ্ঞতা দিতে এবং আন্তর্জাতিক মাপকাঠিতে স্থানীয় দৃষ্টান্ত প্রতিস্থাপনে কাজ করছে। এই ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারে প্রথমবারের মতো, গ্রাহকদের অনন্য মাত্রার অভিজ্ঞতা দিতে ভ্রমণভিত্তিক অ্যাপ হিসেবে গ্যামিফিকেশন নিয়ে এসেছে। এই প্ল্যাটফরমটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হবে বলে আমি মনে করি।’ ভ্রমণপ্রেমীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমার মতো যারা ভ্রমণ পছন্দ করেন তাদের জন্য এই অ্যাপ অনেক বেশি সহযোগী হবে। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু পর থেকে গত পাঁচ বছর যাবত্ বাংলাদেশের গ্রাহকবান্ধব, নির্ভরশীল ও বিশ্বস্ত একটি ট্র্যাভেল এজেন্সি হিসেবে সহস্রাধিক ভ্রমণকারীকে সাফল্যের সঙ্গে সেবা দিচ্ছে শেয়ার ট্রিপ।’ এই সময়ের নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘নারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস ও ইচ্ছা থাকতে হবে। পড়াশোনা শেষে একজন নারীকে পরিবারও সামলাতে হয়। শুধু চাকরি আর ব্যবসা নিয়ে পড়ে থাকলেই হবে না। তবে এটাও নয় যে, নারীরা পরিবারে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করবে না। আমরা নারীরা এখন স্বাবলম্বী সেই চিন্তাটা সব সময় মাথায় রাখতে হবে। সে অনুসারে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। বর্তমানে দেশের অনেক করপোরেট হাউজে বড়ো বড়ো দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। সমাজেরও নারীদের গ্রহণ করার যোগ্যতা বাড়াতে হবে।’ সারা দিনের ব্যস্ততার মাঝে অবসরে দুই মেয়েকে নিয়ে সময় কাটান তিনি। একটু সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্য বেরিয়ে পড়েন। এভাবেই জীবন কাটছে বাংলাদেশের প্রথম ট্র্যাভেল অ্যাপ শেয়ার ট্রিপের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার (সিসিও) সাদিয়া হকের।