‘জেগে ওঠো দ্রোহে এক হও বিপ্লবে’

মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক

 

‘জেগে ওঠো দ্রোহে, এক হও বিপ্লবে’—উদ্যমে উত্তরণে শতকোটির ২০২০-এর এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মহিলা সমিতির আইভি রহমান মিলনায়তনে ‘নারীর প্রতি সহিংসতার কারণ:সমসাময়িক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনায় আলোচক হিসেবে বিভিন্ন অবস্থান ও অঞ্চল থেকে একজন আদিবাসী, রূপান্তরিত নারী, শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবার, প্রান্তিক অঞ্চল ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠি থেকে মোট পাঁচ জন কিশোরী-কিশোর তাদের ভাবনা এবং ধারণা ব্যক্ত করেন।

হ্যাপি হোম-এর শামীমা আক্তার বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার কারণ হচ্ছে, পরিবারেই মেয়ে সন্তান আর ছেলে সন্তানকে আলাদাভাবে দেখা হয়। সেখানেই মেয়েদের কাজ আর ছেলেদের কাজকে ভাগ করে দেওয়া হয়। কখনো কখনো ন্যূনতম সম্মান দিয়েও কথা বলা হয় না। তাই মেয়েদের প্রতি একটা ছোট মানসিকতা এবং নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির শিক্ষা তারা পরিবার থেকেই পায়। তাই ছেলেরা নারীদের প্রতি এত সহিংস।

মোনঘর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ম্যাই চিং বলেন, কুসংস্কার এবং ধর্মীয় গোড়ামিই হচ্ছে অন্যতম কারণ নারীদের পিছিয়ে রাখা এবং দমিয়ে রাখার। এসব অন্ধবিশ্বাস থেকে বেরিয়ে এলে তবেই নারীদের মুক্তি ঘটবে ও সহিংসতা কমবে। ‘কালার্স এফ এম’-এর আর জে রিয়াসাত বলেন, সেক্স এডুকেশন শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলেই পর্নোগ্রাফির প্রতি কিশোররা ঝুঁকে পড়েছে। প্রযুক্তির অনেক বড়ো একটা নেতিবাচক প্রভাব কিশোরদের ওপর পড়ছে। আর সেই কারণে নারীদের প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। এছাড়া বিচারব্যবস্থা সক্রিয় ও তত্পর নয়। আমরা তো দেখি না যে কোনো ধর্ষক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেয়েছে। এটাও একটা কারণ নারীদের প্রতি সহিংসতা বাড়ার।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রূপান্তরিত নারী বাদশা মিয়া রুহি, একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার এবং কুমিল্লার চান্দিনার যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি। পরবর্তীকালে কৈশোর ভাবনা-ধারণার আলোকে বক্তব্য দেন ব্র্যাকের চিকিত্সা মনোবিজ্ঞানী রুবিনা জাহান বলেন, শিশুদের সামাজিকীকরণে ঘাটতি রয়েছে। পরিবারে নারী-পুরুষের সমতাটা কীভাবে চর্চা হয়, সেই বিষয়টাতে খেয়াল রাখা দরকার। আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় মেয়ে শিক্ষার্থীর জন্য কমনরুম আর ছেলে শিক্ষার্থীর জন্য খেলার মাঠের ব্যবস্থা আছে। স্কুল এবং শিক্ষক দুটোকেই জেন্ডার বান্ধব হতে হবে। তিনি আরো বলেন, সমাজ এবং রাষ্ট্র দুটোই কালেকটিভ টলারেন্স আচরণের  চর্চা করে। নারীর প্রতি সহিংসতাগুলোকে খুব স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার মানসিকতাও তৈরি হয়েছে। যেটার ভয়াবহ রূপ হচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়া।

ডিসঅ্যাবিলিটি ইন্টারন্যাশনালের নাজমা আরা বেগম পপি বলেন, দেশে বিচারহীনতার চর্চা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, এটা কমিয়ে আনা চ্যালেঞ্জিং। বিচারব্যবস্থা ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি বান্ধব না। যে শিশু বা নারী কথা বলতে অক্ষম, তারা কোর্টে কীভাবে বোঝাবেন যে তিনি ধর্ষণের স্বীকার হয়েছেন। সাংকেতিক ভাষার ব্যবস্থা কোর্টে নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদয়ালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যক্ষ গীতি আরা নাসরিন বলেন, পরিবর্তন সম্ভব কারণ কোনো কিছুই ধ্রুব নয়। নারী বান্ধব রাষ্ট্র গড়ে নিতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় পুরুষতান্ত্রিকতার  চর্চা রাজনীতিতে বিশেষ সুবিধা দেয়। ছেলেদের বোঝার সময় এসে গেছে পুরুষতান্ত্রিকতা পুরুষদের জন্যও কতটা ভয়াবহ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নারীবাদী হোচিমিন ইসলাম, মার্জিয়া প্রোভা, বিশিষ্ট লেখক ও প্রকাশক বাকি বিল্লাহ, ইয়ুথ ফর চেঞ্জের সায়মা আক্তার দিপ্তী।

অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন উদ্যমে উত্তরণে শতকোটি-বাংলাদেশের সমম্বয়ক খুশী কবির।