ভালোবাসা আর বসন্তের রঙে নানা আয়োজন

মুহাম্মদ দিদারুল আলম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

 

পহেলা ফাল্গুনে শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমন। এবার বসন্তের প্রথমদিনে আবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। তাই আনন্দটাও অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে বেশি। এ দিনে রঙিন সাজে সাজে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফুলের মঞ্জুরিতে মালা গাঁথার দিন বসন্ত কেবল প্রকৃতিকেই রঙিন করেনি, রঙিন করেছে আবহমানকাল ধরে বাঙালি তরুণ-তরুণীর প্রাণ। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সারাদিন মুখরিত ছিল চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবির শিরীষ তলা, আমবাগান শেখ রাসেল শিশুপার্ক ও জামাল খান ডা. এমএ হাশেম চত্বর।

এবার পহেলা ফাল্গুনের পাশাপাশি পালিত হয়েছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও। তাই আনন্দটা দ্বিগুণ রূপে ধরা দেয় তরুণ-তরুণীসহ সকল শ্রেণির মানুষের কাছে। এ ভালোবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি মানুষে-মানুষে ভালোবাসাবাসির দিনও। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান, এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসায় আপ্লুত হতে পারে সবাই। সকাল থেকেই পরনে লাল, হলুদ আর বাসন্তী রঙের শাড়ি, খোপায় ফুল, কারো আবার পুরো গায়ে গোলাপ, রজনীগন্ধা আর হলুদ গাদা ফুলে সেজেছে। নারীদের সঙ্গে মিলিয়ে লাল, হলুদ রঙের পাঞ্জাবি পরেছে ছেলেরাও। বসন্তের এ প্রহরে নারী-পুরুষের এমন বর্ণিল সাজে প্রকৃতিও যেন সেজেছে সবুজ পাতায়। সকাল ৮টা থেকেই ধীরে ধীরে লোকারণ্য হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবির শিরীষ তলা, আমবাগানের শেখ রাসেল শিশুপার্ক ও জামাল খান চত্বর। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে আসতে থাকে বসন্ত উত্সবে। কেউ প্রিয় মানুষের হাত ধরে, বন্ধু-বান্ধবী মিলে তরুণ-তরুণীরা, কেউ আবার পরিবার নিয়ে আসতে দেখা যায়।

সিআরবিতে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের আয়োজনে উত্সবে অংশ নিয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। দুই পর্বের এ আয়োজন সকাল ৮টায় শিল্পী প্রমা অবন্তীর নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এরপর দি ভায়োলিনিস্ট চিটাগংয়ের যন্ত্রসংগীত, রক্তকরবীর সম্মেলক সংগীত পরিবেশন করা হয়।

সকাল ৯টায় প্রমার সভাপতি রাশেদ হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত্ পালের সঞ্চালনায় উত্সবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সংগঠক মফিজুর রহমান ও সহ-সভাপতি কংকন দাশ।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ওডিসি অ্যান্ড টেগোর ড্যান্স মুভমেন্ট সেন্টারের দলীয় নৃত্য দিয়ে শুরু হয়। প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের বৃন্দ আবৃত্তি, করবী দাশের একক সংগীত, উদয় শংকর দাশের আবৃত্তি, লাকী গুপ্তার একক সংগীত, উপলব্দির বৃন্দ আবৃত্তি, প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দলীয় নৃত্য, ইকবাল পিন্টু, দিদার, শাহরিয়ার খালেদের একক সংগীত। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের শিশুরা বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে। এছাড়া ছিল আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পীদের একক আবৃত্তি।

উত্সবের সভাপতি রাশেদ হাসান বলেন, পল্লী জীবনে মানুষ যতটা প্রকৃতির ছোঁয়া পায়, নাগরিক জীবনে সেটা পাওয়া যায় না। তাই বসন্তের এ দিনে সবার মনে সুষ্ঠু সংস্কৃতির মাধ্যমে প্রকৃতির বার্তা দিতে চাই। এদিন নগরীর আমবাগান শেখ রাসেল শিশুপার্কে বোধনের বর্ণিল বসন্ত উত্সবে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে। ‘নিবিড় অন্তরতর বসন্ত এলো প্রাণে’ শিরোনামে বোধন বসন্ত উত্সবের আয়োজন করে। শুরুতে বোধনের সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী সোহেল আনোয়ারের কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সকালের অধিবেশন শুরু হয়। সংগীতশিল্পী শ্রেয়সী রায়ের পরিচালনায় অভ্যুদয়ের শিল্পীরা সমবেত সংগীত পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যরূপ একাডেমি, ওডিসি অ্যান্ড টেগোর ড্যান্স মুভমেন্ট সেন্টার, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ ও স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ড্যান্সের নৃত্য শিল্পীরা। একক সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী শ্রেয়সী রায়, মোস্তফা কামাল, গীতা আচার্য্য, ইমন শীল, করিম মানিক প্রমুখ।