নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনের প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সেনাবাহিনী এসেছে। তারা কারও পক্ষে নয়। সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ। সেনাবাহিনী আমাদের জাতীয় সম্পদ ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এ সম্পদকে আমরা সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে চাই। আমাদের দুর্যোগে, বিপদে, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ও উন্নয়নে সেনাবাহিনী আমাদের নির্ভরযোগ্য সহযোগী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনেক কিছু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ঐক্যফ্রন্ট-বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করেছে, পুলিশকে বিতর্কিত করেছে, প্রশাসনকে বিতর্কিত করতে চায়, এখন সেনাবাহিনীকে নিয়ে যেন বিতর্ক না করে। সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চক্রান্ত যদি কেউ করে তার জবাব দেওয়া হবে ৩০ তারিখ।
সোমবার বিকেলে তার নিজ নির্বাচনী এলাকা কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক নারী সমাবেশে এ সব কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা নির্বাচন চাই এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে কিসের নির্বাচন? ঐক্যফ্রন্ট-বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর মতলবে আছে। এ জন্য তারা একেকদিন একেক অজুহাত দেখাচ্ছে। তারা যেখানে যান সেখানে লোকজন নেই। জনগণ এখন তাদের ডাকে আর সাড়া দেন না। তারা বলেছে- কেন্দ্র পাহারা দেবে, আমরা বলি কেন্দ্র রক্ষা করবো, ভোট গণনা পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকবো।
তিনি নেতাকর্মীদের অনুরোধ করে বলেন, আপনারা সবাই মাথা ঠাণ্ডা রাখুন ও সতর্ক থাকুন। আগামী ৩ দিন বড়ই অগ্নিপরীক্ষার। এ সময় ঐক্যফ্রন্ট-বিএনপি অনেক উস্কানি দেবে। তাদের উস্কানির ফাঁদে পা দেবেন না। আমরা দেখছি জনগণ আমাদের সঙ্গে আছেন। আমরা এমন কোনো সুযোগ দেবো না, যেটাকে অজুহাত দেখিয়ে তারা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পাঁয়তারা করতে না পারে। ৩০ তারিখ আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে আসবেন। বিএনপি হেরে যাওয়ার আগে, আর আমরা জেতার আগেই জিতে যাই। এটা সমস্যা। জিতার আগে জিতবেন না।
মওদুদ আহমদের গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কোম্পানীগঞ্জে নিজের গাড়ি বাড়িতে রেখে মাইক্রোবাস ভাড়া করে তিনি বের হন। ভাড়া গাড়ি বের করে নিজের লোক দিয়ে হামলা করে, তার দোষ আওয়ামী লীগের ওপর চাপাচ্ছেন। তিনি বলে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ তার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমি বলতে চাই- নির্বাচন কমিশন এখন সব দেখার মালিক। নির্বাচন কমিশন তদন্ত করুক, পুলিশ দিয়ে তদন্ত করুক, বিদেশি পর্যবেক্ষক, দেশি পর্যবেক্ষক আছে, তারা অনুসন্ধান করুক। যদি এ ঘটনার সঙ্গে আমার দলের কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকেন তাহলে আমি তাকে থানায় দিয়ে আসবো।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সহায়তায় চতুর্থ ভারতীয় চালান
ওবায়দুল কাদের তার সময়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, মানুষ মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে না, বাস্তবে বিশ্বাস করেন। নোয়াখালীবাসীর একশ’ বছরের দাবি নোয়াখালী খাল সংস্কার। বর্ষার সময় সুবর্ণচর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জ এলাকার ৯০ ভাগ জায়গা বছরে ৯ মাস পানির নিচে থাকে। একটু বৃষ্টি হলেই নোয়াখালী শহর পানির নিচে তলিয়ে যায়। শেখ হাসিনা এ খাল সংস্কারে ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। কাজটি করছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীকে দিয়ে কাজটি এ জন্য করানো হচ্ছে- মানুষ যেন বিশ্বাস করেন এবং কাজটি যেন সময়মতো শেষ হয়। এ কাজ সমাপ্ত হলে ফসল হবে তিনগুণ। নারীরা কাজ পাবেন, ছেলেরা কাজ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, মওদুদ আহমদ তার ক্ষমতাকালে নোয়াখালী খাল নিয়ে অনেক ধোঁকা দিয়েছেন, একটি কাজও করেননি। তিনি আবার ভোট চাইতে এসেছেন। ২২ বছর ধরে আপনাদেরকে কলা দেখিয়েছেন, মূলা ঝুলিয়েছেন, বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখিয়েছেন তিনি। পাবলিক ভুয়া প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বাস করেন না। মানুষ বাস্তবতায় বিশ্বাসী। কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকলে মানুষ সঙ্গে থাকে না। এখন তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার মতলবে আছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিম, কবিরহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুন নাহার শিউলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন রুমি এবং সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জহিরুল হক রায়হান প্রমুখ। এর আগে মন্ত্রী কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।
ইত্তেফাক/এমআই