সংকলন সাইফুল ইসলাম জুয়েল
v নগরীর একটি নামকরা রেস্টুরেন্টে চিকেনজাতীয় কিছু খাওয়ার পর ওয়েটার এসে জিজ্ঞেস করল, ‘স্যার ড্রিংকস খাবেন?’
‘হ্যাঁ। বোতলজাতীয় কিছু দাও এনে।’
কথা শুনে ওয়েটার আমতা আমতা করে আমাকে কী জানি বলতে চেয়েছিল। তাই আমি নিজেই কথাটার পূর্ণতা দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কী হয়েছে? কিছু বলবে?’
‘আসলে স্যার, আমাদের এইটা নরমাল রেস্টুরেন্ট তো, এখানে বোতল টাইপের কোনো ড্রিঙ্কস হয় না।’
‘নরমাল রেস্টুরেন্টেই তো এইসব ড্রিঙ্কস মিলে।’
‘সরি স্যার, আমাদের এখানে নেই।’
এবার রাগ করে বললাম, ‘কী বলেন মিয়া এইসব! রেস্টুরেন্ট খুলছেন আবার ডিউ বা স্প্রাইটজাতীয় কোনো ড্রিঙ্কসই নাই। কীসের ব্যাঙের রেস্টুরেন্ট।’
কথাটা শুনে ওয়েটারের যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। উত্তরে বলল, ‘ও আচ্ছা, আপনি এই বোতলের কথা বলছেন।’
‘হ্যাঁ, কাচের বোতলের কথাই বলছি।’
‘ইয়ে মানে, দুঃখিত স্যার। আপনার কথাটা বুঝতে পারিনি।’
‘হইছে, আর ইয়ে মানে করতে হবে না। যান এখন ড্রিঙ্ক নিয়ে আসেন। আর শোনেন, চিন্তা ভাবনা ভালো করেন, এখনো সময় আছে।’
v আহমদ জুয়েল
০-০০
v প্রথম শ্রেণির ক্লাসে সেদিন এক ছাত্রকে বললাম, ‘তোমার নাম লেখো তো!’
ছাত্র প্রথমে বাংলায়, তারপর ইংরেজিতে নাম লিখে দেখাল।
এরপর বলে উঠল, ‘স্যার আমি বাংলা ইংরেজিতে নাম লেখতে পারি, অঙ্কে নাম লিখতে পারি না, শিখিয়ে দেন।’
ছাত্রের আগ্রহে অবাক হলাম, উমম্ বিষয় জটিল! গণিতবিদের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে হবে।
v জোয়ার্দার হাফিজুল ইসলাম
v সেমিস্টার ফাইনাল এক্সাম শুরু হবে সামনে, তাই রাত জেগে পড়াশোনা করছি। হঠাত্ ছোট ভাই এসে কাতুকুতু দেওয়া শুরু করেছে। আমি ওকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কীরে কাতুকুতু দিস কেন?’ ও বলল, ‘আজ পেপারে দেখলাম, হাসিখুশি থাকলে নাকি পরীক্ষা ভালো হয়, তাই তোমাকে কাতুকুতু দিয়ে হাসিখুশি রাখছি।’
v সেমিস্টার ফাইনাল এক্সাম চলছে। সামনে বসেছে সুলতানা সমাপ্তি। কিন্তু ও কী লিখছে কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি ওকে কলমের খোঁচা দিয়ে বললাম, ‘বোন, একটু স্পষ্ট করে লেখ, কিছুই বুঝি না।’ ওর সরচিত উত্তর, ‘এটা আমার নিজস্ব ফন্ট, বুঝতে না পারলেও এখন আমি Times New Roman ফন্টে বোল্ড হরফে লিখতে পারব না।’
v সেমিস্টার ফাইনাল এক্সাম শেষ। বন্ধু অনিম জিজ্ঞাসা করল, ‘দোস্ত, সেমিস্টার ব্রেকে আমি তো কক্সবাজার ট্যুরে যাব, চিল করব! তুই কী করবি?’ আমি বললাম, ‘টেনশন করব।’
v আল সানি
০০০
v সাক্ষাত্কারের সময়
দ্বিতীয় প্রশ্নকর্তা :আপনার ধৈর্য কেমন, উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলুন।
আমি :আমি বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটে নিয়মিত অর্ডার করি।
তৃতীয় প্রশ্নকর্তা :কতক্ষণ পর পর অর্ডার আপডেট দেখেন?
আমি :এখন পর্যন্ত আপডেট দেখার চেষ্টা করিনি।
প্রথম প্রশ্নকর্তা :অভিনন্দন! আপনি বিপণন বিভাগের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
v তানজিদ আহমেদ
০০০
v এক চায়না, এক কোরিয়ান, এক তামিল (ভারতীয়) আর এক বাংলাদেশি কফি শপে গল্প করছিল। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। ও হ্যাঁ, বাংলাদেশি ছেলেটা আমি। তো কফি শপে যাওয়ার জন্য আমরা একটা Ola (উবারের মতো) নিয়েছিলাম। তো তামিল ছেলেটা বলল, ‘এই গাড়িটা কিন্তু তামিল নাড়ুতে তৈরি। এমনকি ওলা সার্ভিসটাও ইন্ডিয়ান। এখন যদি আলাদিনের জিনিকে বলি, ইন্ডিয়ান জিনিস তুড়ি মেরে উধাও করে দাও, তাহলে আমরা চার জনই ঠাস করে রাস্তায় পড়ব এবং পাছায় ব্যথা পাব। হাঃ হাঃ হাঃ!
কফি শপে ঢুকলাম। আমার কাছে একটা ক্যামেরা ছিল। আমি ক্যামেরাটা ব্যাগে ঢোকাচ্ছিলাম। তখন কোরিয়ান ছেলেটা বলল, ‘দেখি দেখি। এই ক্যামেরা আমাদের দেশে তৈরি হয়। এটা যদি মুহূর্তে উধাও হয়ে যায় তাহলে পৃথিবীর অনেক স্মৃতি মুছে যাবে!’
কফিতে চুমুক দিচ্ছি। কী যে যন্ত্রণা! একজন এটা বানায়, একজন সেটা বানায়। আর আমি শুধু খাই। তখন একটা ফোন কল এলো আমার মোবাইলে। চায়নিজটাও তাকিয়ে ছিল। সে বলল, ‘কী? বউ ফোন করেছে?’
আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’
চায়নিজ বন্ধুটা বলল, ‘যদি মোবাইল ফোন আমরা এত সস্তায় না বানাতাম, পৃথিবীর অনেক স্বামী-স্ত্রীরা একে অন্যকে ভুলে যেত। হাঃ হাঃ হাঃ!’
আমি আর পারছিলাম না। কফি মগে লম্বা একটা চুমুক দিয়ে বললাম। এই কফি শপে যত মানুষ, এই দেশ ও পৃথিবীতে যত মানুষ তাদের অনেকের গায়ের পোশাক কাপড়চোপড় আমাদের দেশে তৈরি। ওগুলো ফট করে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলে ন্যাংটা দিয়ে দুনিয়া ভরে যাবে! কী একটা অবস্থা!!’
তারা স্টান্ড! আমি বেশ আরেকটা চুমুক দিলাম সুড়ুত্ করে।
v সহস্র সুমন
০০০
v সিনিয়র ভাই নক দিয়ে বলল, ‘সৌরভ জোশ একটা ক্যাপশন লিখে দে তো। ছ্যাঁকা খাইছি, ছ্যাঁকা খাইছি ভাব হয় যেন।’
আমি বাধ্য ছেলের মতো একটা ক্যাপশন লিখে সেন্ড করলাম।
‘হারিয়ে যাওয়া শালিক জানে, ফেলে আসা পালকে কতটুকু শোক,
প্রতারকের জন্য, প্রেমিকের বুকে, কারফিউ জারি করা হোক।’
ভাই লাভ রিয়্যাক্ট দিল মেসেজে। তারপর বলল, ‘আরো কয়দিন খাটতে হবে তোরে। পরে ট্রিট পাবি।’
পরেরদিন আবার সেই ভাইয়ের নক। বলল, ‘এমন একটা স্ট্যাটাস লিখে দিবি, যেখানে চা খাওয়া আর দেখা করা, দুইটাই যেন থাকে।’
আমি লিখে দিলাম, ‘তোমার সাথে নিয়ম করে দেখা হোক। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে ঝড় তুলব একদিন। তারপর সেরে নেওয়া যাবে এইসব ব্যক্তিগত আলাপ।’
ভাই তো খুশি। ফোন দিয়ে বলল, ‘কাজ হইতেছে। কেবল দেখা করে এলাম। চা খাইছি, তাই খরচও কম হইছে।’
আমি কিছু না বলে ফোন রেখে দিলাম।
তারপরের দিন ভাই বলল, ‘মেয়েটা খাইছেরে আমারে। কবিতা শুনতে চাইতেছে। কী করব?’
‘সমস্যা নাই ভাই, দুই চার লাইন কইয়া দিবেন।’
‘ওরে আজ প্রপোজ করে দিলে কেমন হয়?’
‘খারাপ না।’
‘তাইলে ঐরকম একটা স্ট্যাটাস লিখে দে।’
আমি লিখে পাঠালাম,
‘একটি রাত শুধু কবিতার হোক—
ভুল করে হলেও, ভুলে যাবো সমস্ত শোক;
কবিতা শোনাতে শোনাতে প্রথমবার বলব, ভালোবাসি।’
পরের দিন ভাই নক দিয়ে বলল, ‘আমার তো অসুখ হইছে রে।’
‘কী বলেন ভাই! ডাক্তার আনব? কই আপনি?’
‘আরে ধুর, আমার অসুখ হয় নাই। তুই এমন একটা স্ট্যাটাস লিখে দে, যেখানে বোঝা যাবে আমার অসুখ হইছে, আর তারে খুব প্রয়োজন।’
আমার মাথা গরম হলো। প্রেম করবে ভালো কথা, মিথ্যা বলতে হবে কেন? তবুও বড়োভাই হয়, কিছু তো বলতে পারি না। লিখে পাঠালাম,
‘শরীরের অসুখের উপশমে, ডাক্তার কেন খোঁজো!
অ-সুখের উপশমে লাগে ভালোবাসা;
অনুরোধ, এটা একবার বোঝো।’
ভাই রীতিমতো আমার উপরে মুগ্ধ। সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। আমারে ট্রিট দেয়। গল্পের বই, কবিতার বই গিফট দেয়। আমিও খুশি, তিনিও খুশি। বেশ কয়েকদিন নক দেয় না, তারপর একদিন হুট করে বলল, ‘তোরে একটা কথা বলি। মাইন্ড করবি না প্লিজ।’
‘আচ্ছা বলেন, সমস্যা নাই।’
‘ওরে চুমু খাইতে চাই।’
‘চুমু খাইবেন ভালো কথা। আমার কী? আমি কী করমু?’
‘না মানে, আমি তো সরাসরি বলতে পারি না। তুই একটু লিখে দে না ভাই আমার।’
নাহ। আর ভাল্লাগে না। আজ চুমু খাবে, আমার লিখে দেওয়া লাগতেছে। যদি বিয়ে করে? বাচ্চাকাচ্চা নেওয়া লাগে? তখনো আমি লিখে দেব? মনে রাগ লুকিয়েই লিখে দিলাম,
‘আমি তোমার ঠোঁটেই চুমু খাব—
যদিও লোকমুখে শুনতে পাচ্ছি এটা একটা মরণফাঁদ।’
বেশ কিছুদিন হলো ভাই নক দেয় না। মাঝে একদিন ফোন দিয়ে দেখা করেছিল। গার্লফ্রেন্ড তাকে বই গিফ্ট করছে, সে সেগুলো আমাকে দিয়ে চলে গেছে। আমার মনে হলো, আমি মুক্তি পেয়েছি। বেশ কিছুদিন চুপচাপ। তারপর একদিন নক দিয়ে বলে, ‘ভাইরে, একটু ঝামেলা হইছে। তোর ভাবি রাগ করছে, ব্রেকাপ করতে চায়। কিছু লিখে দে।’
আমি লিখলাম, ‘ততটুকু যাও, যতটুকু গেলে, গন্তব্যের ট্রেন ফিরে আসে—
হাতটা বাড়াও, বুকে টেনে নাও, নক্ষত্রকে ভালোবেসে।’
ভাইয়ের রিলেশন এখনো চলছে। আমার লাভই হয়। দুইদিন পরপর ট্রিট, গিফ্ট পেতেই থাকি। শুধু মাঝে মাঝে এসব লিখে দিতে হয়। আহ জীবন!
v সৌরভ হাসান