১২টি সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন

বাজারে অনুশীলন বই আছে, নোট গাইডের অস্তিত্ব নেই 

বাংলাদেশে কোনও ‘নোট গাইড’ বই নেই বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। 

সংগঠনের নেতারা বলেন, অনুশীলনমূলক বইকে নোট গাইডের তকমা দিয়ে বিক্রি বন্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে আইনে। এই বিধিনিষেধ আরোপের যে প্রস্তাব’ তা শিক্ষাখাত তথা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। তা না হলে পুরো শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টস ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৯ -এর কয়েকটি ধারা-উপধারা সংশোধনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতিসহ ১২টি সংগঠন। 

২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার সারা দেশের বইয়ের দোকান বন্ধ রেখে মানববন্ধন করবে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি।

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে অনুশীলন বইয়ের সংজ্ঞা ঠিক করার দাবি জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি কামরুল হাসান শায়খ বলেন, আইনে অনুশীলন বইয়ের সংজ্ঞায়িত করতে হবে। অনুশীলন বইয়ের মানোন্নয়ন এবং অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা যেতে পারে।

শায়ক দাবি করে বলেন, অনুশীলন বই বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি কোচিং সেন্টার ও গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এছাড়া অনুশীলন বইয়ের খাতে বিশাল যে জনগোষ্ঠী কর্মরত আছেন, তারা বেকার ও অর্ধবেকার হয়ে পড়বেন। ২৩ লাখ ১০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি আরিফ হোসেন ছোটন বলেন, প্রস্তাবিত আইনে নোট গাইড সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, কিন্তু অনুশীলনমূলক বইয়ের কোনও সংজ্ঞা নেই। 

‘নোট গাইড’ হচ্ছে পাঠ্যবইয়ে দেওয়া উত্তরগুলো সরাসরি থাকে’ যা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হয়। শিক্ষার্থীরা তা মুখস্ত করে পরীক্ষায় অংশ নেয়। অন্যদিকে অনুশীলন বইয়ের বিষয় বস্তু হচ্ছে পাঠ্য বিষয়ের সহজে অনুধাবন, প্রশ্নের নমুনা, উন্নত উত্তর লেখন পদ্ধতি। শিক্ষার্থীরা অনুশীলন বই মুখস্ত করে না। কারণ তা মুখস্ত করে কোনও লাভ নেই। সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষায় কোনও প্রশ্ন কমন পড়ে না।’

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের অনুশীলন বই উপস্থাপন করেন কামরুল হাসান শায়ক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুশীলন বইয়ের সহায়তায় পাঠ্যপুস্তক বই প্রকাশিত হয় দাবি করে সংগঠনের সভাপতি আরিফ হোসেন বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন  দেশে একেক রকম সহায়ক বা অনুশীলন বই রয়েছে। সিঙ্গাপুরে শুধুমাত্র অনুশীলন বই দিয়েই চলে লেখাপড়া।’

নোট বই থেকে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র কমন পড়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের সহ-সভাপতি শ্যামল পাল বলেন, ‘কোনও অনুশীলন বই থেকে প্রশ্ন কমন পড়েনি। এটা বিগত বছরের প্রশ্ন থেকে এই বছরের প্রশ্ন করা হয়েছে। এই জন্য আমরা দায়ী নই। যারা প্রশ্নের প্রণেতা তারাই দায়ী।’

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সহ-সভাপতি শ্যামল পাল, সহ-সভাপতি মির্জা আলী আশরাফ কাশেম, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির রাজধানী কমিটির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওয়েব প্রিন্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি রাব্বানি জাব্বার, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি ওসমান গনি, বাংলাদেশ পুস্তক বাঁধাই ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

ইত্তেফাক/জেডএইচ