আগামী ৩ নভেম্বর
অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে চায় রাশিয়া। এর মাধ্যমে দেশটি আবারও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নির্বাচিত করতে চায়
তালেব রানা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর অভিযোগ উঠেছিল যে—তার প্রচারণা টিমের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসাজশ ছিল। রাশিয়া ট্রাম্পকে নির্বাচিত করতে মার্কিন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে। যদিও ট্রাম্প বরাবরই রুশ সংযোগের অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু এরপরও এই অভিযোগ তদন্তে বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগ করা হয়। প্রায় ২২ মাস ধরে এই অভিযোগের তদন্ত হয়।
গত বছরের মার্চে বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলার তার তদন্তের প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপে বলা হয়, কোনো মার্কিন নাগরিক বা ট্রাম্পের প্রচারণা দলের কোনো সদস্য জ্ঞানত রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাত করেছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিচারকার্যে বাধা দিয়েছেন, এমন অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি।
ট্রাম্প ও তার প্রচারণা টিমের সঙ্গে রুশ সংযোগের প্রমাণ না পাওয়া গেলেও মার্কিন গোয়েন্দারা ও বিরোধী রাজনীতিকরা মনে করেন রাশিয়া ট্রাম্পকে জয়ী করতে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। এখনো তাদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা কমিটিতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে চায় রাশিয়া। এর মাধ্যমে দেশটি আবারও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নির্বাচিত করতে চায়।
গোয়েন্দা কমিটির ব্রিফিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি রাশিয়া হ্যাকিং, সোশ্যাল মিডিয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং নির্বাচনি কাজে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালাতে পারে। কেবল ট্রাম্পকে নির্বাচিত করতে নয়, মার্কিন নির্বাচন যে ত্রুটিপূর্ণ এবং এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় তা বিশ্বকে দেখাতেও রাশিয়া এ কাজটি করতে চায়।
এই খবর সামনে আসার পর মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স রাশিয়ার নিন্দা করেছেন। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লক্ষ্য করে বলেছেন, আমেরিকার নির্বাচন থেকে দূরে থাকুন। তবে গত শুক্রবার নেভাদায় এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ব্রিফিং একটি গুজব এবং ডেমোক্র্যাটরাই এটা শুরু করেছে।
কেন রাশিয়া ট্রাম্পকে আবারও চায়? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। সংবাদ মাধ্যমটির এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে পররাষ্ট্রনীতিতে জয়ী হয়েছে এমনটা নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলেও মস্কোর ওপর কঠোর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। ব্রিটেনে পক্ষ ত্যাগকারী সাবেক রুশ গোয়েন্দা ও তার মেয়ের ওপর বিষ প্রয়োগের ঘটনায় বিভিন্ন মিত্র দেশসহ যুক্তরাষ্ট্র থেকে রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারে একজোট হয়ে কাজ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এক্ষেত্রে দুটি বিষয় স্মরণে রাখা দরকার। ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন জয়ী হতে পারেন এমন সম্ভাবনা নিয়ে প্রকৃতপক্ষেই ক্রেমলিনের উদ্বেগ ছিল। অন্যদিকে ট্রাম্পের মনে পুতিনের জন্য একটি উষ্ণ স্থান রয়েছে।
হিলারির প্রতি পুতিনের বিদ্বেষ নতুন ঘটনা ছিল না। ২০১১ সালে রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে যে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল—তার জন্য তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী পুতিন তখনকার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করেছিলেন। হিলারির আগ্রাসী মনোভাবেও রাশিয়া বিরক্ত ছিল। অন্যদিকে ট্রাম্প ছিলেন পুতিনের অন্যতম প্রশংসাকারী। এমনকি টুইটারে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ক্রেমলিনের নেতা তার নতুন ভালো বন্ধু হতে পারে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরও পুতিনের প্রতি তার অবস্থান বদলায়নি। এটা অনেকেই জানে যে, ২০১৮ হেলসিংকিতে সম্মেলনে ট্রাম্প গণমাধ্যমের সামনে সরাসরি বলেছিলেন যে—তার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের চেয়ে পুতিনের কথায় তার আস্থা বেশি। রুশ সরকার এসব কারণে ২০২০ সালের নির্বাচনের রায় ট্রাম্পের পক্ষে আনার চেষ্টা করেছিল। চার বছর পরও ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মস্কোর কাছে খুবই পরিচিত মানুষ। এ কারণে রাশিয়া এবারও মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতে পারে এবং আগের মতোই এই হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করতে পারে।