ঢা কা বি শ্ব বি দ্যা ল য়

দেশসেরা বিতার্কিক দল

বিতর্কের মঞ্চে কেউ নাকি পরাজিত হয় না। কারণ, অংশগ্রহণ করা উভয় দলই নিজেদের জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করার সুযোগ পায়। তাই জয় বা পরাজয়, যাই ঘটুক না কেন নিজেদের বিতর্ক চর্চার শক্তি একধাপ বৃদ্ধি পায়। তবে আসর যেহেতু দেশসেরা বিতার্কিক দলগুলোর মধ্যে সেরাদের সেরা নির্ণয়ের সেহেতু একদলকে তো বিজয়ের মুকুট পরতেই হবে। এবারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া ‘জাতীয় বিতর্ক উত্সব-২০২০’— এ সেই সেরার মুকুট অর্জন করেছে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি’। দেশের ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক দলকে হারিয়ে এ বিজয় ছিনিয়ে নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট অর্গানাইজেশন এ জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ৩১ জানুয়ারি শুরু হওয়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে। প্রতিযোগিতার স্লোগান ছিল             ‘তফাত্ হোক শিরদাঁড়ায়’। প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল ১৫তম আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নবম আন্তঃকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নবম আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতা ও বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এছাড়াও চূড়ান্ত পর্ব শেষে রম্য আঞ্চলিক বিতর্ক প্রদর্শনী ও সংগঠনটির বার্ষিক প্রকাশনা স্যুভেনির প্রকাশ করা হয়। আয়োজনের প্রিন্ট মিডিয়া স্পন্সর ছিল দৈনিক ইত্তেফাক।

বিজয়ী দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির হয়ে বিতর্কে অংশ নেন ওমর রাদ, আরিফুল হাসান পার্থ, শাহরিয়ার আহমেদ। চূড়ান্ত পর্বের বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষাকে সমর্থন করে’। সংসদীয় পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া বিতর্কে সরকারি দল হিসেবে বিতর্ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রানার্সআপ হওয়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি বিতর্ক করে বিরোধী দলের ভূমিকায়। প্রতিযোগিতায় ‘ডিবেটার অব দ্যা টুর্নামেন্ট’ হয়েছেন শাহরিয়ার আহমেদ ও ‘ডিবেটার অব দ্যা ফাইনাল’ হয়েছেন ওমর রাদ। ওমর রাদ বলেন, ‘বুটেক্স কে হারিয়ে আমরা চূড়ান্ত পর্বে প্রতিযোগিতা করি। প্রতিযোগিতায় বিচারক প্যানেল থেকে শুরু করে আয়োজনের প্রতিটি ধাপ ছিল চমত্কার। আয়োজকদের আতিথিয়তা অসাধারণ। সব মিলিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার এই আসরের খ্যাতি রয়েছে। আয়োজক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট অর্গানাইজেশন ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। আর আমার বিতর্ক জীবনের এবারের আসর ছিল শেষবার। সেটা বিজয় দিয়ে শেষ হওয়ায় ভালো লাগছে।’  

প্রতিযোগিতায় কলেজ পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ‘ঢাকা কমার্স কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি’ ও রানার্সআপ হয় ‘শহীদ আনোয়ার গার্লস ডিবেটিং ক্লাব’। রাজউক উত্তরা কলেজকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পায় ঢাকা কমার্স কলেজ। মোট ২২টি কলেজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। চ্যাম্পিয়ন দলে বিতর্ক করেছে ফয়সাল মাহী, শেখ মো. মুয়াজ, আখলাখ হোসেন জীন। ‘ডিবেটার অব দ্যা ফাইনাল’ হয়েছেন ফয়সাল মাহী। বিজয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফয়সাল মাহী বলেন, ‘কলেজ পর্যায়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড়ো আসরে এ অর্জন যথেষ্ট আনন্দের।’

স্কুলপর্যায়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ডিবেটিং ক্লাবের তিন নম্বর দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় চার নম্বর দল। মোট ৩২টি স্কুল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। চূড়ান্ত পর্বে মুহাইমিন বিন আশরাফ ও টুর্নামেন্ট জুড়ে আবরার হাসিন সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হয়েছেন। বারোয়ারি প্রতিযোগিতায় হাসান মাহমুদ সম্রাট ও পাবলিক স্পিকিংয়ে সেরা হয়েছেন রোকেয়া আশা। চূড়ান্ত পর্বের অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক আলমগীর কবির উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনের আহ্বায়ক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট অর্গানাইজেশনের সভাপতি তাজরীন ইসলাম তন্বী বলেন, ‘সারা বাংলাদেশ থেকে বিতার্কিক দলগুলো অংশ নিয়েছে। এই আয়োজন সব মহল থেকে প্রশংসা পেয়েছে। সবার সংশ্লিষ্টতা ও সহযোগিতায় চমত্কার আয়োজন ছিল।’