বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের অন্যতম অভিনেত্রী ও নাট্যনির্দেশক আফসানা মিমির আহ্বানে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত্রি উদযাপনের মধ্যদিয়ে রাজধানীর উত্তরার রবীন্দ্র স্মরণীতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘ফিরে দেখা অমর একুশ’ উপদযাপন। আফসানা মিমির আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, নায়ক ও সংসদ সদস্য ফারুক, সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তাফা, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামান, শর্মিলী আহমেদ, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, মোশাররফ করিম, অশোক ব্যাপারী, তারকা জুটি শাবনাজ-নাঈম, তাহমিনা সুলতানা মৌ, সুষমা সরকার, শ্যামল মাওলা, মাহাদিয়া সহ আরো অনেকে। আফসানা মিমিকে এই উদ্যোগে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন লিটন কর। মূলত ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আল্পনা আঁকা-ই ছিল ‘ফিরে দেখা অমর একুশ’র মূল কাজ। সেইসঙ্গে একুশের গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি করা, একুশের ইতিহাস জানাও ছিল এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য। আফসানা মিমি জানান, তার ‘ইচ্ছেতলা’র ছেলে-মেয়েদের একুশের গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে ‘ফিরে দেখা অমর একুশ’ উদযাপন শুরু হয়। এরপর উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের অভিভাবকেরা তাদের ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে আসেন আল্পনা আঁকায় অংশগ্রহণের জন্য। মিমি বলেন, ‘মূলত আগামী প্রজন্মের মধ্যে একুশের চেতনা ছড়িয়ে দিতেই আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করি। শিশুরা আল্পনা আঁকতে এসে একুশের ইতিহাস সম্পর্কে জানবে, নিজেদের সমৃদ্ধ করবে—এটাই মূল বিষয়। এই যুগের শিশুরা খালি পায়ে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে হাঁটবে, এটা যেন তারা ভাবতেই পারে না। অথচ আমরা যখন ছোট ছিলাম, খালি পায়ে শহীদ মিনারে যেতাম, জাতীয় পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করতাম। সেখান থেকেই আসলে আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হয়েছে। সেই দেশপ্রেম এই সময়ের শিশুদের মধ্যে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদেরই।’