মোহাম্মদ আরজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ভাষা আন্দোলন ও মহান একুশের সংগীত, নৃত্য আর আবৃত্তির জমজমাট পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সপ্তাহব্যাপী অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট লেখক র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, এমপি। জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ফাহিমা খাতুন, পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান, পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবীর, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার। সমাপনী অনুষ্ঠানে তিতাস আবৃত্তি সংগঠন ও বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির হোসেনের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় তাদের বৃন্দ প্রযোজনা ‘এ মাটিতে পা রেখো আস্তে করে’ পরিবেশিত হয়। সংগীত পরিবেশন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমী। এছাড়া পুরো সপ্তাহ জুড়ে বইমেলায় সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন, ভাষা ও সাহিত্য অনুশীলন কেন্দ্র, আনন্দলোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, খেলাঘর আসর, অঙ্কুর শিশু-কিশোর সংগঠন সংগীত-নৃত্য এবং সাহিত্য একাডেমী, আবরনি আবৃত্তিচর্চা কেন্দ্র, প্রবর্তক আবৃত্তি সংসদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া আবৃত্তি একাডেমী বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে। বইমেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল শুদ্ধ বানান, আবৃত্তি, সংগীত, চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা। প্রতিদিন বইমেলায় শত শত মানুষের সমাগম ঘটে। ২৪টি স্টলে উপচেপড়া পাঠকের ভিড়ও এবার লক্ষ করা গেছে। এরমধ্যে ঢাকা থেকে পাঠক সমাবেশ, ইউপিএল, প্রথমা ও সাহিত্য বিকাশের স্টল পাঠকদের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
এবারের বইমেলায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি, বই বিক্রি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট কবি ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক কবি জয়দুল হোসেন। তিনি বলেন, এ বছরের বইমেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষকে আকর্ষণ করতে পেরেছে। একজন লেখক হিসেবে আমি আনন্দিত।