বইমেলা

আফরা মেহজাবীন শীন

বইমেলা শব্দটা আমার মনের খুব কাছের। তবে একদিনে তা কাছের হয়ে ওঠেনি। শুরুটা সেই ছোটবেলা থেকে। বাসায় দুই আলমারি-ভর্তি বই। ক্লাস ওয়ান বা টু থেকেই পড়া শুরু। আমার আপুনি বইয়ের দারুণ ভক্ত। ছোটবেলা থেকে আপুনি রাজশাহী থেকে যাত্রা করে ঢাকার বইমেলা থেকে বই কিনে নিয়ে আসত। পত্রিকার পাতায় বইয়ের বিজ্ঞাপন দেখে লিস্ট তৈরি করা, ব্যাংক থেকে সারা বছরের জমানো টাকা বের করা, দিন-তারিখ ঠিক করে ঢাকায় যাওয়া এবং বইমেলা থেকে একগাদা বই কিনে নিয়ে আসা। সবকিছু একদম উত্সবের মতো! প্রতি বছর যেমন বইমেলা অনেক ধুমধাম করে উত্সবের মতো করে উদ্যাপন করা হয়, তেমনি প্রতি বছর ঘটা করে রাজশাহী থেকে ঢাকা গিয়ে আমাদের বই কেনা হয়। আমি যখন ধীরে ধীরে আরো একটু বড়ো হতে লাগলাম তখন আমার কাছেও বই পড়াটা নেশার মতো হয়ে গেল। ছোটদের থেকে শুরু করে বড়োদের বই, গল্প, উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা, সায়েন্স ফিকশনসহ সবধরনের বই পড়তে শুরু করলাম। মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, হুমায়ূন আহমেদ, সুমন্ত আসলাম, রকিব হাসান, ইমদাদুল হক মিলন, মোশতাক আহমেদ-এর মতো আরো অনেক লেখকের বই স্থান পেল আমার পছন্দের তালিকায়। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আমার আড়াইশ থেকে তিনশটার মতো বই পড়া হয়ে গেল। তারপর থেকে প্রতি বছর বইমেলায় নতুন যেসব বই বের হয়, সেখান থেকে আমার পছন্দের বইগুলো সংগ্রহ করি। পঞ্চম শ্রেণি থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি বছর বইমেলায় যাওয়া হচ্ছে, শুধুমাত্র বইয়ের নেশায়। বইমেলার পথ ধরে হাঁটা, ভিড় ঠেলে স্টলে স্টলে বই পছন্দ করা—সবকিছু আমার মন কাড়ে। ইদানীং গল্প, উপন্যাস, গোয়েন্দা গল্প, অ্যাডভেঞ্চার ইত্যাদি ধরনের বই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে আছে। আর বেশির ভাগ বইয়েই রয়েছে লেখকের অটোগ্রাফ! মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, ইমদাদুল হক মিলন থেকে শুরু করে অনেক লেখকের সঙ্গে তোলা সেলফি এবং লেখকের অটোগ্রাফ আমার সংগ্রহে আছে। ২০১৭ সালের বইমেলা আমার জন্য একটু অন্যরকম ছিল। আমার আপুনির লেখা প্রথম বই সে বছর বইমেলায় প্রকাশিত হয়! সে ছিল এক আলাদা অনুভূতি! এরকম প্রতি বছর ভিন্ন বইয়ের স্বাদে, ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন রঙে সাজে বইমেলা। নতুন নতুন অনেক পাঠক প্রবেশ করে বইয়ের দুনিয়ায়। শিশু-কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রায় সকল বয়সের মানুষ ছুটে আসে বইমেলায় বইয়ের নেশায়। আশা করি, যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে এ প্রথা অব্যাহত থাকবে।