নাসিম আনিস
বইটি সঙ্গ ও নিঃসঙ্গতার দৃশ্যবিরোধের বুননে ধারণ করেছে প্রেম ও ভালোবাসার আনন্দ এবং শূন্যতা বিষয়ে মেঘজ্যোতিভাবের কবিতা। এই প্রতারক সময়ে, চকচকে মোড়ক ঢাকা চাণক্যসমাজে অপ্রেম প্রতিরোধী-সামর্থ্য অর্জন করছে। প্রেমিক-প্রেমিকা ভিজে যাচ্ছে শরীর, সময় ও চতুর চাহিদার বমির পীড়নে। কবিতাগুলি খুলে দিতে পারে হূদয়রুদ্ধ-কপাট :প্রেমে ভালোবাসি প্রেম।
কোনো সন্দেহ নেই, সন্দেহ করবার মতো প্রশ্নগুলি আনখশিখর দিয়ে বুঝে গেছে, এখনকার প্রেম, শরীরের, কাদচিত্ হূদয়ের দাস্যপ্রথা বলে। আপাত আনন্দের জন্য ডানা খোঁজে পাথরে, কখনো বা পলাশে।
আমরা প্রেম নিয়ে যেভাবে একসময় অভিভূত হতাম, আনন্দিত হতাম; সত্য যে, ঐসব ধমনি আলোড়িত সঞ্চালন এখন অতি নাটকীয়তার আখ্যান। যে প্রেমে বাণিজ্য নেই এখন তার কোনো বাজার নেই বলে মনে করা হয়।
যার সামান্য কাণ্ডজ্ঞান আছে, হোঁচট খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে, সে জনও জানে, প্রেমের মাল্টিপল রিলেশনগুলি বেশ জ্যোতির্ময়, ক্ষতিময়। তারপরও মানুষ নিরন্তর প্রেমকে ভালোবাসে। প্রেম পাওয়াকে মনে করে বলবার মতো অর্জন। যদিও প্রেমে পড়া মানুষ বাস্তবতার পীড়নে ক্রমাগত বোকা হতে থাকে।
আমাদের সময়টা এক পারদ-চটা আয়না। তার সামনে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা নয়, একজন প্রকৃত সাধুও যদি দাঁড়ান, দেখবেন, চৌচির হূদয়। দেখবেন, ভালোবাসাহীন প্রতিবিম্ব এবং বিচূর্ণ সম্পর্কের শীত।
প্রেম ও যৌনতা পৃথিবীর প্রথম যমজ ভাইবোন। দুজন প্রেরণার স্পন্দন ঘটায়। দুজনেরই আছে আগুনের পেট। এক অনন্তের ক্ষুধা নিয়ে জীবনের কথা বলে। কখনো ঘুমায় না। মনে রাখা ভালো :শুদ্ধ প্রেমের কোনো শ্রেণিদ্বন্দ্ব নেই।
পৃথিবীর সব প্রেমিক-প্রেমিকা একবার না একবার কাঁদবেই। কারণ :প্রেমের অ-সুখ।
প্রকাশক :পাঠক সমাবেশ