বাংলাদেশ তথা বাংলা ভাষাভাষি আবৃত্তি অনুরাগীদের কাছে মেহেদী হাসান একটি পরিচিত নাম। মেহেদী হাসানের তুমুল জনপ্রিয় আবৃত্তি সংকলন ‘মিথিলা’, ‘তৃষিত তিমির’, ‘নীলখাম’ শোনেননি এমন শ্রোতা খুব কমই পাওয়া যাবে। নব্বইয়ের উত্তাল সময় থেকে যে কয়জন মেধাবী তরুণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের পাশাপাশি প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল মেহেদী হাসান তাদের একজন। আইন বিভাগে অধ্যয়নরত মেহেদী ১৯৮৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সলিমুল্লাহ্ হলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ডাকসু সাংস্কৃতিক দলের আবৃত্তি বিভাগে যোগ দেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত অনুষ্ঠান ঘোষক হিসেবে যোগ দেন।
১৯৯৩ সালে বাংলা একাডেমির ২১শে বইমেলায় প্রকাশিত হয় মেহেদী হাসানের প্রথম আবৃত্তি সংকলন ‘তৃষিত তিমির’। এরপর বিপুল শ্রোতাপ্রিয়তায় একে একে প্রকাশিত হয় নীলখাম, মিথিলা, হূদয় সীমান্তে, অন্তঃপুরে বৃষ্টি, পরাণের গহীন ভিতর ইত্যাদি। মেহেদী হাসান একাধারে আবৃত্তিশিল্পী ও কবি। এ পর্যন্ত প্রকাশিত ‘রাই’ ও ‘হলুদ বিকেল’ কাব্যগ্রন্থ দুটি পাঠকের মাঝে সাড়া ফেলেছে।
‘আবৃত্তির জন্য কথা ও কবিতা’ মেহেদী হাসানের দীর্ঘ আবৃত্তি পরিক্রমা সমৃদ্ধ একটি সম্পাদনা ফসল। দুই খণ্ডের এই সম্পাদনাকর্মে স্থান পেয়েছে মেহেদী হাসানের কণ্ঠে আবৃত্তিনন্দন কবিতা, শ্রুতি নাটকসহ এপার-ওপার এবং এই সময়ের আলোচিত কবিদের প্রায় ৫০০ কবিতা। এসময়ের নবীন আবৃত্তিশিল্পীদের জন্য এই বৃহত্ সম্পাদনা কর্মটি হবে একটি সহায়ক গ্রন্থ। সেইসঙ্গে বিদগ্ধ পাঠক এবং কবিতানুরাগীদের সংগ্রহকে করবে সমৃদ্ধ। সর্বোপরি ‘আবৃত্তির জন্য কথা ও কবিতা’ সম্পাদনা গ্রন্থটি আবৃত্তিশিল্পের চর্চা ও বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
‘আবৃত্তির জন্য কথা ও কবিতা’ এবং মেহেদী হাসানের জন্য শুভেচ্ছা।
প্রকাশক :নালন্দা