একজন বিজ্ঞানীর দৃষ্টিতে সুফি দর্শন ও সুরা ইয়াসিনের তাত্পর্য

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী পরমাণু বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এম শমশের আলী রচিত তিনটা নতুন বই এসেছে এবারের একুশে বইমেলায়। ‘সায়েন্স, সুফি থটস অ্যান্ড রুমি’ শীর্ষক ইংরেজিতে লেখা গ্রন্থে চারটি নিবন্ধ আছে। বইটি ‘বিজ্ঞান, সুফি দর্শন ও রুমী’ শিরোনামে ভাষান্তর করেছেন মাসুক আহমেদ। প্রচ্ছদ ধ্রুব এষের। মূল ইংরেজি ও অনুবাদ দুটোই প্রকাশ করেছে স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ঐতিহ্য’ (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, প্যাভিলিয়ন নং-১৪)। সুফিদের ইলহাম উত্সারিত ভাবনার সঙ্গে বিজ্ঞানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়গুলো যেমন সাধারণ পাঠককে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে তেমনি সুফিদের দর্শন ও সাহিত্যের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করবে।

সুফিদের মাধ্যমেই বঙ্গে মানবতার ধর্ম ইসলাম এসেছে। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার নেপথ্যে সুফিদের বার্তাগুলোর প্রভাব অনস্বীকার্য। বঙ্গে সুফি প্রভাব (১২০১-১৮৫০ খ্রি.) নিবন্ধে সেই বার্তাগুলোর মর্ম পুনর্পাঠ করার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ নিবন্ধ জগত বিখ্যাত সুফি মরমি সাধক জালালুদ্দীন রুমিকে নিয়ে। রুমির সর্বজনীন চরিত্রের ব্যপ্তি, গভীরতা সমকালীন প্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ করেছেন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম শমশের আলী। ‘মওলানা রুমির চিন্তাধারা; সমসাময়িক প্রভাব’ শীর্ষক নিবন্ধে  তিনি নতুন করে পুরোনো রুমিকে চিনিয়েছেন। সবমিলিয়ে গ্রন্থটিতে বিশ্বনাগরিকতাবোধ ও গভীর স্বাদেশিকতার সমীভূত সন্নিপাত লক্ষণীয়।

প্রফেসর ড. এম শমশের আলী রচিত আরেকটি বই ‘আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে সুরা ইয়াসিনের গুরুত্ব’ প্রকাশ করেছে কথামেলা প্রকাশনী (স্টল নং- ২৯৭-৯৮)।

সুরা ইয়াসিনকে আখ্যায়িত করা হয়েছে  কোরআনের আত্মা হিসেবে। পবিত্র কোরআনের সুরা ইয়াসিনে অনেক বৈজ্ঞানিক ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, জীবন ও জগতকে বুঝাবার জন্য। জীবনের শুরু ও জীবনের শেষ, মহাবিশ্বের শুরু ও মহাবিশ্বের শেষ কোনো কিছুই এই সুরাতে বাদ যায়নি। এগুলো বৈজ্ঞানিক ঘটনা। কিন্তু অধিকাংশ লোকই বিজ্ঞান ও কোরআনের জ্ঞান একসঙ্গে না থাকার কারণে বুঝে উঠতে পারে না সুরা ইয়াসিনের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব। এই বইটিতে পাঠকদের অবগতির জন্য সুরা ইয়াসিনে বর্ণিত জীবন ও জগতের ঘটনাবলীর বৈজ্ঞানিক তাত্পর্য এক এক করে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। lধর্মচিন্তা ডেস্ক