তবে কি ফুরিয়ে যাচ্ছেন মেসি!

প্রায় দেড় যুগ ধরে লিওনেল মেসির ফুটবল জাদু উপভোগ করছেন যে দর্শক তিনিও কি বলবেন, হৃদয় ভরেছে তার! মেসির ভালোবাসায় যে কিশোর সদ্যই রাত জেগে লা লিগা দেখছে সে কি মানতে পারবে প্রিয় তারকার ফুরিয়ে যাওয়া? সদ্যজাত নবজাতকও হয়ত একদিন আফসোস করে বলবে, ইস যদি আর কয়টা দিন আগে আসতে পারতাম মেসির পৃথিবীতে! ভাবতে কষ্ট হলেও বলতেই হয়, তার সাম্প্রতিক পারফরমেন্স সে কথায় বলছে, ফুরিয়ে যাচ্ছে ফুটবল বিস্ময়!

 

লা লিগার ২০১১-১২ মৌসুমে ৫০ গোল করে বিস্ময় কৃতিগড়া বার্সেলোনা অধিনায়ক শেষ সাত ম্যাচে চার গোল করলেও জালের দেখা পেয়েছেন মাত্র ম্যাচে। দুর্বল প্রতিপক্ষ এইবারের বিপক্ষে পেয়েছেন চারটি গোলের দেখা। বাকি ছয় ম্যাচই গোলশূন্য!

 

গত সপ্তাহেই লেভান্তে ও ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হেরে বাজে সময় কাটানো রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারলো বার্সেলোনা। অথচ মেসিরা সামান্যতম প্রতিরোধও গড়তে পারেননি। ম্যাচ শেষের ১৫ মিনিট আগে ঘুরে দাড়ানোর দারুণ সুযোগ আসে বার্সেলোনা অধিনায়কের সামনে। ক্ষিপ্রগতির মেসি সুযোগটি নষ্ট করেন মার্সেলোর চেয়ে কমগতির দৌড়ে। বিগত বছরগুলোতে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে এমন সুযোগে আসলে অনেক কিছুই হতে পারতো।

 

গত এলক্লাসিকোতে মৌসুমের সর্বনিম্ন রেটিং ছিলো মেসির (৬.৩৯)। সেই সাথে এই নিয়ে পাঁচবার এলক্লাসিকোতে গোলবঞ্চিত হলেন মেসি। যে রেকর্ডও বলে মেসির ফুরিয়ে যাওয়ার গল্প।

 

এই মৌসুমের বেশ কয়েকটি ম্যাচে মেসিকে স্বরূপে দেখা যায়নি। বিশেষ করে ইনজুরিতে থাকা সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে যে মেলবন্ধন ছিলো মেসির, তার সামান্যতমও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না গ্রিজম্যানের সঙ্গে। এসব ম্যাচে মেসির শারীরিক ভাষাও খুব দুর্বল দেখিয়েছে। 

 

অবশ্যই কেউ দাবি করতেই পারেন মেসি এক চুল ফুরায়নি। যুক্তি, চলতি মৌসুমেও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৩টি গোল ও ১৬টি এসিস্ট করেছেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। তারপরও একজন মেসি ভক্ত ঠিকই স্বীকার করবেন ; ক্ষিপ্রগতি, অসাধারণ ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস ও দুর্দন্ত ফিনিশার মেসি হয়ত সত্যিই ফুরিয়ে যাচ্ছেন। মনের জোরের কথা যতই বলি না কেন বয়সও কথা বলে। এই জুনেই ৩৩ এ পা দেবেন মহাতারকা।

 

ইত্তেফাক/এএম