শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

পড়াশোনার পাশাপাশি...

উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয় সবার কাছে ভিন্ন রকমের একটি প্লাটফরম। এখানে শিক্ষার্থীরা তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ পায়। বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধুই পড়াশোনা নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি সুযোগ রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে নেতৃত্ব দেওয়া, মানুষকে বোঝানোর দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা, সবার সঙ্গে মিলে কাজ করা ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করার। রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটির সঙ্গে যুক্ত এমন কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত লিখেছেন— মো. আবু হানিফ

ফ্রিল্যান্সিং করে ১৬শ’ ডলারের বেশি আয় করেছি

—মো. শামীম কাওছার বাঁধন

এমএস অধ্যয়নরত, কৃষি সম্প্রসারণ ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ

শখ করেই ২০১৪ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখি। প্রথমে নকিয়া মোবাইলে অপেরা মিনি ব্রাউজারে ব্লগিং শুরু করি। এরপর সামহোয়ারইন, সচলায়তনসহ নিজস্ব ব্লগে ২০১৪-২০১৫ সালে টুকটাক লেখালেখিতে কাটাই। ২০১৫ সালের সুেপ্টেম্বরে বাবা-মারা যাওয়ার পর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তখন শখের বসে শেখা ওয়েব ডেভেলপমেন্টই ছিল আমার পাথেয়। এরপর ২০১৬-২০১৯-এর শুরু পর্যন্ত ছিলাম আপওয়ার্কের শতভাগ জব স্যাটিসফেকশনসহ টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার ব্যাজধারী। তিন বছরে শুধু আপওয়ার্কেই ৪৫০০ ডলার এবং এর বাইরে ১২০০০ ডলারের বেশি আয় করেছি যেখানে মাইক্রোসফটের টিম মেম্বারসহ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার ক্লায়েন্ট ছিল। বর্তমানে আমেরিকান একটি কোম্পানিতে কাজ করছি।

 

দুই বছরে ৭০ ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করেছি

—মাসুমা জান্নাত

অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ

রক্ত নিয়ে কাজ করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাজের সঙ্গে থেকে আমি পেয়েছি মানসিক প্রশান্তি। কিছু মহান মানুষের দেখার সুযোগ পেয়েছি, যারা অসহায় মানুষের প্রা বাঁচাতে যে কোনো মুহূর্তে রক্তদানে প্রস্তুত থাকেন। গ্রাম থেকে অচেনা শহরে আসা অসুস্থ রোগীদের পরিবারের লোকজন যখন আমাদের কাছে এসে এক ব্যাগ রক্তের জন্য আকুতি জানায়, কান্নায় ভেঙে পড়ে, তখন আমরা বুঝি তার মনের অবস্থা। পাশে এসে যথাসময়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি আমরা  প্রত্যেকটা বাঁধন কর্মী। দুই বছরে আমি এমনই ৭০ জন অসহায় রোগীকে ৭০ ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করে দিতে পেরেছি। এটা আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। অনেকেই ফিরে পেয়েছে নতুন জীবন, অনেকেই সুস্থতা লাভ করেছেন।

যুক্তিতে খুঁজি সমাধান  

—মো. শিহাব আলী

এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদ

৯ম শ্রেণিতে উপজেলা পর্যায়ের কবিতা আবৃতি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করি। আবৃতিতে ভালো করলেও বিতর্কের প্রতি আলাদা ঝোঁক ছিল। গ্রামের স্কুল, কলেজে বিতর্কের সুযোগ ছিল না, বিটিভিতে নিয়মিত বিতর্ক দেখতাম, আর মাকে বলতাম ‘মা আমিও একদিন বিতর্ক করব।’ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সর্বপ্রথম যুক্ত হই ‘শেকৃবি ডিবেটিং সোসাইটি’ সংগঠনে। ২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তঃঅনুষদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমার দল চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৯ সালে স্ট্যামফোর্ড ইয়েস কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় আমি শেকৃবির একক প্রতিনিধিত্ব করে প্রথম রাউন্ডে দ্বিতীয় স্থান ও ফাইনাল রাউন্ডে চতুর্থ স্থান অর্জন করি। বেশকিছু প্রেজেন্টেশনে সেরা বক্তা নির্বাচিত হয়েছি। এসব অর্জনের পেছনে বিতর্কের অবদানই বেশি।

 

সেবাই আমাদের মূলমন্ত্র  

—উম্মে আফিয়া অর্পি

কৃষি অনুষদ

ক্যাম্পাসে আসার আগেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে রোভার স্কাউটের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখি। তখন থেকেই সংগঠনটির প্রতি আমার ভালো লাগা সৃষ্টি হয়। সেই ভালো লাগা থেকেই এই সংগঠনে যুক্ত হই। দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে শেকৃবি এগ্রি রোভার্সে আমার যাত্রা শুরু হয়। আমাদের মূলমন্ত্র সেবা। সেই সেবার মধ্যে প্রথমেই আমরা প্রাধান্য দিই আত্মসেবাকে। এরপর আসে সমাজসেবা। এছাড়া আমাদের রোভার স্কাউটের সাতটি আইন মেনে চলতে হয়। ক্যাম্পাসের প্রতিটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ডিউটি প্রদানের সুযোগ পাচ্ছি। আমরা শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই, বন্যায় বিধ্বস্ত অসহায় মানুষগুলোর পাশে খাবার নিয়ে হাজির হই।