মাহবুব নাহিদ
বরিশালে গড়ে উঠেছে এক অনন্য ট্রেনিং সেন্টার, নাম তার ফ্রিডম লেডি স্কুটি ও বাইক ট্রেনিং সেন্টার। কথা হয়েছিল সেখানের এক জন সদস্য সাবিহা রহমান রূপন্তীর সঙ্গে। তিনি জানালেন এই সেন্টার সম্পর্কে। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ুআনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হয়।
তাদের মাথায় প্রথমে যে ব্যাপারটি আসে সেটি হলো হয়রানি। যেমন সচরাচর পাবলিক যানবাহন অটো, বাসে নারীদের বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। স্বাচ্ছন্দ্যে কেউ বাড়ির বাইরে যেতে বা কাজে যেতে পারছেন না। অনেকেরই হয়তো কেনার ক্ষমতা আছে কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এবং চালাতে না জানার কারণে এভাবেই চলাচল করতে হচ্ছে। তখন নিজেদের কিছু আত্মীয়দের শেখানো শুরু করেন তারা, আস্তে আস্তে পরিচিতির মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু করার চিন্তা করেন তারা।
সেখানে প্রধান প্রশিক্ষক এক জন। তবে বিভিন্ন সময় সহযোগিতার জন্য আরেকজন নিয়োজিত আছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা এত অল্প দিনেই ৫০ জন ছাড়িয়েছে। বিশেষত যারা চাকরি করছেন এবং কলেজ পড়ুয়া মেয়েরাই ট্রেনিং নিচ্ছেন। আবার কেউ শখের বশেও যুক্ত হচ্ছেন সেখানে।
এই কাজ করতে তাদের অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। প্রশিক্ষণ উপযুক্ত মাঠ বা রাস্তা না পাওয়া, অনেকের কটূক্তি ছাড়াও রাস্তায় যখন তারা ড্রাইভিং করেন বিভিন্ন বয়সের পুরুষরা বাজে মন্তব্যসহ বিভিন্ন অসহযোগিতা করে। যেমন রাস্তায় সাইড না দেওয়া, হুট করে সামনে গাড়ি থামিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট অবধি করানো। এমন সব ঘটনাও ঘটে থাকে বলে তাদের দাবি।
তারা মনে করেন, যেহেতু বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং অচিরেই উন্নত দেশ হতে যাচ্ছে, সেখানে সমান অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। অনেকেই আছেন, যারা বিভিন্ন বিভ্রান্তির শিকার হন কিংবা গণপরিবহনের ভিড় সামলাতে পারেন না। সেদিক থেকে তাদের মনে হয় নিজের স্বস্তির জন্য অবশ্যই শেখা উচিত।
ভবিষ্যতে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকে নিয়ে অনেক দূর যাওয়ার ইচ্ছা আছে তাদের। তারা ড্রাইভিং শেখানোর পাশাপাশি সোশ্যাল ওয়ার্কেও কাজ করেন। যেমন প্রশিক্ষণ ফির একটি বিশেষ অংশের অর্থ দিয়ে ইতিমধ্যে তারা শীতার্তদের বস্ত্র দিয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আরো অনেক দূর আগাতে চায় তারা। নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার জন্য কাজ করতে চায় ফ্রিডম লেডি স্কুটি ও বাইক ট্রেনিং সেন্টার।