>> মাহবুব শরীফ
করপোরেট কালচারে ‘লিডারশিপ’ শব্দটি এখন খুবই জনপ্রিয়। বর্তমান প্রতিযোগীতার যুগে নিজেকে লিডার হিসেবে কিংবা লিডারশিপে দক্ষতা বাড়াতে না পারলে একজন কর্মী হিসেবে বা উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা প্রায় অসম্ভব। এই লিডারশিপ যোগ্যতার জন্য যেমন দরকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, তেমনি প্রয়োজন কর্মক্ষত্রে ব্যবস্থাপনা। সময়মতো খুব সহজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারা লিডারশিপের একটি বড় গুণ। সেজন্য চাই সমৃদ্ধ তথ্যভান্ডার, মানসিক দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা। দেখতে ভালোলাগে আজ তরুণ প্রজন্ম এ বিষয়ে বেশ অগ্রসরমান।
এমনই এক তরুণ মেধাবী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাকের। তিনি কর্মরত আছেন উপ ব্যবস্থাপক ও প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে ডিমান্ড ফ্যাশন হাউজে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ করে তিনি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করেছেন। মানবসম্পদ বিভাগের পাশাপাশি তিনি এ প্রতিষ্ঠানে সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগেরও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। আমি বিশ্বাস করি প্রতিষ্ঠানের কাজকে নিজের কাজ বলে আন্তরিকতার সঙ্গে করলেই সফলতা আসবে। আমার দ্বারা প্রতিষ্ঠান লাভবান হওয়া মানেই আমার সফলতা। আপনারা জানেন, আমাদের দেশে প্রায় সব সেক্টরে কিছু অনুকরণীয় মানুষ রয়েছেন, যারা পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে স্ব-স্ব জায়গায় এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, বড় কোম্পানিগুলো তাদেরকে নেওয়ার জন্য নানান সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। তাদের লিডারশিপ গুণ এতটাই সমৃদ্ধ যে তরুণ প্রজন্ম তাদেরকে আইডল হিসেবে নেয়।’
সফলতা কখনো একদিনে আসে না। পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও মেধা কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে হয়। শুরুতেই ফোকাস করতে হয়। ছাত্রজীবনেই ঠিক করে ফেলা প্রয়োজন যে কোন সেক্টরটা আমার জন্য ফলপ্রসু। এ বিষয়ে সাকের বলেন, ‘গোল ঠিক করাটাই জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কেউ যদি সঠিক সময়ে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ঠিক করে নিষ্ঠার সঙ্গে অগ্রসর হয় তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। খেয়াল রাখতে হবে আমি যা পছন্দ করি বা যে বিষয়টিতে আমি ভালো—লক্ষ্য স্থির করতে হবে সেই সেক্টরে। তবেই হয়ে গেলো। বাকিটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে জনসংখ্যার তুুলনায় চাকরির বাজার ছোট। তাই পছন্দমতো কর্মসংস্থান সবক্ষেত্রে হয়ে ওঠে না। যদিও বর্তমানে এ ধারার কিছুটা পরিবর্তন হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান বাড়ছে। ভকেশনাল ইনস্টিটিউটের পরিমাণ বাড়ছে। ছাত্রজীবনেই নিজ দক্ষতা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসবদিক বিবেচনা করে বলা যায়, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আজ সরকার যেমন উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তেমনি তরু্নণ প্রজন্ম আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মানবসম্পদে পরিণত হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হবে আমাদেরই তরুণসমাজ।’