নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি পবন গুপ্তার প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। পবন গুপ্তা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে এ আবেদন খারিজ করা হয়েছে বলে খবর এনডিটিভির।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সাজাপ্রাপ্ত পবন গুপ্তার আবেদনে চার আসামির ফাঁসি স্থগিত করেছে দিল্লি আদালতের বিচারক। পবন গুপ্তার ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত। তবে রাষ্ট্রপতির কাছে তার প্রাণভিক্ষার আবেদন পড়ে রয়েছে উল্লেখ করে ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করা হয়েছে। এদের গতমঙ্গলবার (৩মার্চ) ভোর ৬টায় ফাঁসি দেওয়ার কথা ছিলো। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের কারণ দেখিয়ে আদালতে ফাঁসি কার্যকর না করার আবেদন জানায় পবন।
পবনের প্রাণভিক্ষার আবেদনের কথা বিবেচনা করে ফাঁসি কার্যকর করার আদেশের ওপরে স্থগিতাদেশ দেন অতিরিক্ত বিচারক ধর্মেন্দ্র রানা। এর আগেও দুবার ফাঁসির দিন ধার্য হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লির একটি আদালত আগামী ৩ মার্চ ফাঁসি কার্যকরের রায় দিয়েছিল। মোট ৩ বার সেই ৪ অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত।
আরও পড়ুন: পশ্চিম বঙ্গের পরিবর্তে ‘বাংলা’ রাখার প্রস্তাব সরকারে
প্রসঙ্গ, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে বাসের মধ্যে প্যারাম্যাডিক শিক্ষার্থী নির্ভয়াকে ছয়জন মিলে ধর্ষণ করে। পরে তাকে বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় তারা। এতে গুরুতর আহত হওয়া নির্ভয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় ছয় জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। তাদের এক জন মারা যাওয়ায় তাকে মামলার বাইরে রাখা হয় এবং আরেকজন ওই সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের ৫ মে বাকি চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। রায়ের পর চার আসামিই তা রিভিউয়ের আবেদন করে। ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে দিল্লির আদালত। ওই পরোয়ানা অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি সকাল ৭টায় তাদের ফাঁসি কার্যকর করার কথা ছিল।
ইত্তেফাক/আরআই