নামাজ যেমন বেহেস্তের চাবি অর্থাত্ নামাজ ছাড়া বেহেস্তে যাওয়া যাবে না, তেমনি নামাজই কোনো কোনো ব্যক্তিকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করতে পারে। কোন কোন ব্যক্তি কী কারণে নিয়মিত নামাজ আদায় করার পরও জান্নাতে যেতে পারবেন না তা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো—
০১. কখনো কখনো দেখা যায় নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেলেও কেউ কেউ অলসতা করে সময়মতো নামাজ আদায় করেন না। অনেক সময় তারা বলে থাকেন কাজা নামাজ আদায় করবেন। অলসতা করে যারা সময় মতো নামাজ আদায় করেন না তাদের নামাজ কবুল হবে না। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআন মজিদের সুরা মাউন-এর ৪-৫ এ ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর দুর্ভোগ ঐ সব মুসল্লির জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।’ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও তাফসিরবিদরা উল্লেখ করেন, ‘যারা নামাজ থেকে উদাসীন ও খেল-তামাশায় ব্যস্ত থাকেন, রুকু-সিজদা, ওঠা-বসা যথাযথভাবে করেন না তাদের নামাজ আদায় হবে না। যারা নামাজের কেরাত, দোয়া ও তাসবিহ যথাযথভাবে পাঠ করেন না।
০২. আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছেন যারা মানুষকে দেখানোর জন্য নামাজ পড়েন। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহকে ধোঁকা দেয়। যখন ওরা নামাজে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায় লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৪২)।
০৩. যারা একেবারে দায়সারাভাবে নামাজ আদায় করেন অথবা নামাজের প্রয়োজনীয় বিধি-বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করেন না তাদের নামাজ আদায় হবে না। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বাপেক্ষা বড়ো চোর যে ব্যক্তি তার নামাজ চুরি করে।’ সাহাবিরা জিগ্যেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল সে কীভাবে নামাজ চুরি করে?’ সাহাবিদের এ প্রশ্নের জবাবে রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘সে নামাজে রুকু ও সিজদা পূর্ণ করে না’ (মুসনাদে আহামাদ, হাদিস: ২২৬৯৫)। অতএব, আসুন আমরা সকলে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত পন্থায় নামাজ আদায় করি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমীন আমাদের সবাইকে যথাযথভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
—লেখক : সভাপতি, পরিচালনা কমিটি, সাইটুল ইসলামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা, শ্রীমঙ্গল, সিলেট