করোনা সতর্কতায় সুধী সমাবেশ বাতিল নৌ প্রতিমন্ত্রীর

করোনা সচেতনতায় পূর্বঘোষিত সুধী সমাবেশ বাতিল করেছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার ঢাকার কদমতলী থানাধীন মুন্সিখোলাঘাটে ছয়টি ভারী জেটির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এ সুধী সমাবেশের কথা ছিল। 

আইইডিসিআর এর নির্দেশনা অনুযায়ী জনসমাগম এড়াতে এদিন সুধী সমাবেশ বাতিল করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনসমাগম এড়িয়ে চললেও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্থল, নৌ ও বিমান পথের প্রবেশ দ্বারে সরকার নজরদারি করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা করে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোন আতঙ্ক নয়। 

করোনা ভাইরাসের বিষয়ে কোন তথ্য গোপন করা হচ্ছেনা জানিয়ে খালিদ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, মিডিয়াকে সবকিছু জানানো হচ্ছে। মোংলা বন্দরে আগত জাহাজে করোনা ভাইরাস সন্দেহে পর্যবেক্ষণে থাকা তিনজনের দেহে করোনা ভাইরাসের কোন লক্ষণ পাওয়া যায়নি; জাহাজটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে আগত একটি জাহাজে ইউক্রেনের একজন নাগরিক হৃদরোগে মারা গেছেন। 

নদী দখল ও দূষণরোধে সরকারের চলমান কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো ঢাকার প্রাণ। এগুলোতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে এনে ঢাকাকে আবাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় কাজ চলছে। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোসহ দেশের অন্যান্য নদীর দখল ও দূষণরোধে প্রধানমন্ত্রী ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করে দিয়েছেন। পাশাপাশি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ঢাকার চারপাশের নদীর দখল ও দূষণরোধে কাজ করে যাচ্ছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদী তীরে জেটিগুলো নির্মিত হলে নৌপথে পরিকল্পিতভাবে পণ্য উঠানামা করা যাবে। নদীতীর দখলরোধে নির্মিত ওয়াকওয়ে (পায়ে হাটার পথ) ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা, নদী তীর দখল ও দূষণ বন্ধ হবে। নদী তীর দখল ও দূষণরোধে ঢাকাবাসী আমাদের সাথে থাকবেন। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম আমাদেরকে সহযোগিতা করছে। ঢাকাকে রক্ষা করতে হলে এর চারপাশকে রক্ষা করতে হবে। নদী তীর দখল ও দূষণরোধ কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে; তারপরও এগিয়ে যাব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে ১০ হাজারের বেশি সীমানা পিলার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে; এগুলোর মধ্যে তিন হাজার সীমানা পিলার দৃশ্যমান হয়েছে। অতীতে কোন সরকার নদীর তীর রক্ষার কাজে দৃষ্টি দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে নদী রক্ষায় কার্যক্রম গ্রহণ করেন। সেসব কর্মসূচি চলমান থাকলে নদী রক্ষায় এত বেগ পেতে হতোনা। ২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় এসে প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে। তারা উন্নয়নের দিকে নজর দেয়নি। তারা হিংসা বিদ্বেষের রাজনীতি করেছে। দেশকে এগিয়ে নেয়ার কোন পরিকল্পনা তাদের ছিলনা। শেখ হাসিনার সরকার নদী রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ সংগ্রামে আমরা বিজয়ী হবো।

সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক এবং প্রকল্প পরিচালক নুরুল আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ