ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল আটটা। গভীর ঘুমে ছিলাম। ফোনের রিংটোনে ঘুম ভেঙে গেল। ফোনটা রিসিভ করতেই রকেট ভাইয়ের ফোন। তুমি কোথায়? তাড়াতাড়ি আস। সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। ভুলেই গিয়েছিলাম আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও বার্ষিক বনভোজন। ফুলবাড়িয়া পরিবারের আয়োজনে এই বরণ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। ‘ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট থাকুক আজীবন’ এই স্লোগানে রাবিতে যাত্রা শুরু করবে ‘ফুলবাড়িয়া পরিবার’।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এসে দেখি আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমাদের গন্তব্য নারিকেলবাড়িয়া! অবাক হওয়ার কিছু নেই এটা শহিদ তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়া নয়। এটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নামে পরিচিত জায়গা। ক্যাম্পাস থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে, রাজশাহী বাইপাস রোড থেকে ডানে এক কিলোমিটার ভিতরে এই ক্যাম্পাস।
সকাল ১০টায় পৌঁছে গেলাম বনভোজন স্পট নারিকেলবাড়িয়ায়। গেটে প্রবেশ করতেই দেখলাম চারদিকে সারিসারি আম, লিচু, বেলসহ আরো নানা রকম গাছ। পৌঁছানোর পর যথারীতি শুরু হলো রান্নার কাজ। কেউ রান্না করার চুলা তৈরি করছে কেউবা আবার থালা-বাসন ধোয়ার কাজে ব্যস্ত। সকলের সহযোগিতায় শেষ হলো রান্নার কাজ। সবাই একসঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজের পর শুরু হলো নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ পর্ব। পরিবারের বড়ো ভাইয়েরা তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিল এক এক করে।
অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে বিভিন্ন রকমের খেলাধুলা। প্রথমেই সকলের অংশগ্রহণে মিউজিকের তালে তালে বালিশ বদল খেলা। পরে অনুষ্ঠিত হয় ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ। এরপরে সর্বশেষ আকর্ষণ পাতিল ভাঙা। খেলা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।
একটু পরেই সন্ধ্যা নামবে। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। আমাদের সব আয়োজন একে একে শেষ হলো। এবার আমাদের ক্যাম্পাসে ফেরার পালা। আবার সেই অটোরিকশায় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা। বিদায় জানালাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস খ্যাত নারিকেলবাড়িয়াকে।