সমুদ্রের পানে একঝাঁক মত্স্য প্রেমিক

মাথার ওপরে নীল আকাশ আর চারদিকে স্বচ্ছ জলের নীল সাগর। নীল জলের সীমানা ধরে বালুময় সৈকত, প্রবালের প্রাচীর, কেয়া গাছের বেষ্টনী আর সারি সারি নারিকেল গাছ। দূর থেকেই যা মন্ত্রমুগ্ধ করে আগত অতিথিদের। উত্তাল সাগরের নোনা জল যখন আছড়ে পড়ে কেয়া গাছের ফাঁকে, ঝিরিঝিরি বাতাসে তৈরি হয় সফেদ ফেনা, সে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। প্রকৃতি যেন তার অপরূপ সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়েছে আপন মনে। বলছিলাম প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের কথা।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত্স্য ও সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের ১৩তম ব্যাচের ফিল্ড ট্যুরের গল্প। তিন জন শিক্ষকের পরিচালনায় ট্যুরটি হয়ে উঠে অসাধারণ। আনন্দ, হাসি, আড্ডা আর একবুক আশা নিয়ে টেকনাফের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেল বাস। কিছুদূর যাওয়ার পর পথিমধ্যে হঠাত্ বাস থেমে যায়। দীর্ঘ সময় পেরোলেও বাস পূর্বের জায়গায় থেমেই আছে। কি হলো! কি হলো! বলে সবার মুখে শব্দ শুনা যাচ্ছে। ড্রাইভার বলে উঠল বাসের একটি চাক্কা নষ্ট হয়ে গেছে! এদিকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জাহাজ ছেড়ে যাবে। দুই ঘণ্টা পর বাস ঠিক হলে আবার শুরু হয় যাত্রা। আল্লাহর কি লীলাখেলা জাহাজ ছাড়ার ঠিক ৫ মিনিট পূর্বে সবাই জাহাজে উঠে। সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে সকলের জাহাজ ভ্রমণ শুরু।

দুপুরের খাবার খেয়ে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে কিছু সময়ের জন্য সমুদ্রের বিচে ল্যাবের কাজ করতে চলে যায় সবাই। যেহেতু সকলে সমুদ্র বিজ্ঞান কোর্সের ল্যাবের অংশ হিসেবে ফিল্ড ট্যুরে এসেছে সেই হিসেবে কিছু সামুদ্রিক প্লাঙ্কটন বেনথোস সংগ্রহ করে। রাতের বেলায় হুমায়ুন আহমেদের সমুদ্র বিলাস ঘুরে বিচের পাড়ে বসে সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জনে আর গানের আসরে জমে উঠে বেশ আড্ডা।

পরদিন সকালে ছেঁড়া দ্বীপের উদ্দেশ্যে ট্রলার যাত্রা শুরু হয়। সর্বত্র ছোটো-বড়ো পাথর আর কেয়া গাছ। চারপাশ জুড়ে শুধু নীল পানির ঢেউ। সাগরে মাঝখানে ছোট্ট এক পাথুরে দ্বীপ নাম তার ছেঁড়া দ্বীপ। গানের সুরে আর ইঞ্জিনের বিকট শব্দে পানির ঢেউয়ের তালে এগিয়ে চলছে ট্রলার। আশপাশে প্রচুর প্রবাল, পাথর, স্বচ্ছ পানিতে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি স্নিগ্ধ সাগরে। ছেঁড়া দ্বীপের ঘুরাঘুরি শেষে বিকাল বেলা সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ফেরা। তিন দিনে জমানো কিছু স্মৃতিকে বিদায় জানিয়ে ফেরা প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায়।