রক্তের ফেরিওয়ালা ‘কণিকা’

সকাল ৯টা। মহান ভাষা দিবস উদযাপনে মুখরিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন। ফুল, ব্যানার-ফেস্টুন আর পরনে কালো আবার কারো লাল রঙের বাহারি পোশাক। শহীদ মিনারের পাশ ঘেঁষে তৈরি স্টলের দিকে চোখ পড়ল। বিস্তারিত কথা হলো স্টলে বসা কয়েকজনের সঙ্গে। ওপাশ থেকে এগিয়ে এসে আলোচনায় যোগ দিলেন আরেকজন। যার নাম মোহাম্মদ সায়েম। কণিকার বর্তমান সভাপতি।

চট্টগ্রামের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তিন তরুণ—সাইফুল্যাহ মনির, সাঈদ আহমদ নসিফ ও মহসিন রনি ভাবলেন— রক্তদান বিষয়ে প্রচলিত অসচেতনতা দূর করতে হবে। তাই দেরি না করে ভাবনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করলেন। ২০১২ সালে ‘কণিকা ব্লাড ব্যাংক’ নামে একটা ফেসবুক পেজ থেকে অনলাইনে কাজ শুরু করেন। চেষ্টা করেন মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির। এর একবছর পর কাজ শুরু করেন অফলাইনেও। ২০১৪ সালে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘কণিকা :একটি রক্তদাতা সংগঠন’।

সাধারণত রক্তদাতা সংগঠনগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য থাকে রক্তদাতা খুঁজে দেওয়া। এবার ২১ ফেব্রুয়ারিতে রক্তের ফেরিওয়ালা কণিকা ৮ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজন করে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

সংগঠনটি ‘সৃষ্টির জন্য ভালোবাসা’ স্লোগানকে ধারণ করে কাজ করছে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য রক্তদান সম্পর্কে সমাজে সচেতনতা তৈরি করা। ‘কণিকা’  একটি রক্তদাতা সংগঠন হলেও ভিন্নতা রয়েছে তাদের। গরীব, অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে চিকিত্সা প্রদান, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, বন্যার্তদের জন্য সাহায্য ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কাজ করে থাকে ‘কণিকা’।

কথা হয় কণিকার সদস্য সুমাইয়া বিনতে কামরুলের সঙ্গে। যেমনটা বলছিলেন তিনি, ‘মানবতার সেবা করার জন্য বিভিন্ন সংগঠনে নিজেকে যুক্ত করি। রক্তদাতা সংগঠন ‘কণিকা’র সাথে পরিচয়ের পর ভাবলাম—এখানে সবকিছুই রক্ত রিলেটেড। রক্ত আগে দেইনি কখনো। ভাবলাম এই সংগঠনে যুক্ত হই। পরে ‘কণিকা’ সম্পর্কে বিস্তারিত যখন জানলাম আমার ধারণা বদলে গেলো। রক্ত দেওয়া-নেওয়া সম্পর্কে মানুষ এখনো অনেকেই বুঝে না, মানুষের মাঝে রক্ত আদান-প্রদান, থ্যালেসেমিয়া সনাক্তকরণ  ইত্যাদি সচেতনতার জন্য ‘কণিকা’র সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। সবার আন্তরিক সহযোগিতায় ‘কণিকা’ মানবতার সেবায় সামনে আরো এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’

কেমন লাগছে জানতে চাইলে ‘কণিকা’র স্টলে বসা এস এম কাফিল বলেন, ‘আজকে সংগঠনটি সপ্তম বর্ষ পেরিয়ে অষ্টম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এ জন্য অনেক আনন্দিত বোধ করছি। বাংলাদেশে এখনো রক্তের অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু রক্ত দিতে মানুষকে সচেতন করলে এবং সবাই এগিয়ে এলে এই সমস্যা দ্রুততম সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ‘কনিকা’ সৃষ্টির সেবাদানে কাজ করে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ আমাদের প্রত্যাশা—আগামী দিনগুলোতে আমরা সামাজিক দায়দ্ধতার দিক থেকে সৃষ্টির সেবায় আরো বেশি করে নিয়োজিত থাকব।’

‘কণিকা’র বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘রক্ত চেয়ে আমাদের কাছে কেউ বিফল হয়েছেন এমন নজির নেই। এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা সদা প্রস্তুত। ‘কণিকা’র মাধ্যমেই বাংলার প্রত্যেক অঞ্চলের মানুষের মধ্য রক্তদান সম্পর্কে যে একটা ভীতি এবং সৃষ্টির সেবায় যে অনিহা তা দূর করতে চাই।’