জীবনটা হোক ঠাট্টাময়

/ মুহা. তাজুল ইসলাম

 

তখন আমি রহস্যগল্প লিখি।             গুলিস্তান মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি আর রহস্যের গন্ধ খুঁজছি। ঠিক এমন মুহূর্তে হঠাত্ একটা গন্ধ নাকে এলো; যদিও সেটা রহস্যের না, তেহারির। পেটের দিকে তাকিয়ে দেখি অনেক বেশি ক্ষুধায় পেট ভারী হয়ে আসছে। যদিও পকেটে হাত দিয়ে পকেটটা খুব বেশি ভারী দেখলাম না। গুলিস্তানের এখানে সস্তায় তেহারি পাওয়া যায়, যার মূল্য আমার মতো গরিব মানুষের জন্য পকেট-ফ্রেন্ডলি। এক রেস্তোরাঁয় ঢুকে সত্তর টাকা দামের তেহারি অর্ডার করলাম।

ওয়েটার একপ্লেট তেহারি দিলেন। তেহারির মাঝে দুইশ গ্রাম মাংস, বেশ কয়েকটা গোল আলু, একটা পেঁয়াজ আর দুইটা কাঁচামরিচ। দুই মিনিটেই অর্ধেক তেহারি শেষ করে ফেললাম। তেহারিতে মাত্রাতিরিক্ত মসলা, মাংস অনেক সফট, একটুও হাড্ডি নেই। আগুনের বাজারে এককেজি মাংস যদি পাঁচশ টাকা হয় তবে দুইশ গ্রাম মাংসের মূল্য হবে একশ টাকা। সঙ্গে পোলাওয়ের চাল আর অন্যান্য জিনিস মিলিয়ে তেহারির দাম কত হবে তা ভাবছি।

 

দুই

আমার এক বিদেশি বন্ধু একবার রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন। মাংস ছিল অত্যন্ত সফট, মাত্রাতিরিক্ত মসলা আর হাড্ডিবিহীন। খাওয়ার পরে তিনি জানতে পারেন যে, মাংসটি নাকি ভেড়া না, কুকুরের মাংস ছিল। ভাষা বিভ্রাটের কারণে ভেড়ার পরিবর্তে তিনি কুকুরের মাংসের অর্ডার করেছিলেন। যদিও বিষয়টি তার জন্য মোটেও সমস্যার না হলেও সমস্যা হলো আমার; কারণ তার বর্ণনা করা কুকুরের মাংসের সাথে আমার খাওয়া গুলিস্তানের তেহারির সাথে হুবহু মিল। রহস্যভেদ করে উপলব্ধি হলো যে, যা খাচ্ছি তা গরু, খাসি বা ভেড়ার মাংসের টেস্ট না, কুকুরের মাংসই হবে। আমি আর খাওয়া শেষ করতে পারলাম না। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, সমাজের অসঙ্গতি নিয়ে লিখব, লেখা উচিত।

 

তিন

বাংলাদেশের প্রাচীনতম জাতীয় পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাক। ছোটবেলায় এখনকার মতো এত সহজে পত্রিকা হাতে আসত না।  সারাদিন অপেক্ষা শেষে পত্রিকা পেতে বিকাল হয়ে যেত। ছোটবেলার সেই ভালোবাসা ইত্তেফাকের ঠাট্টা-ই তাই বেছে নিলাম সমাজের নানান অসঙ্গতি তুলে ধরার দরজা হিসেবে। সেই আলপিন থেকে শুরু করে রস-আলো, প্যাঁচআল, ঘোড়ার ডিম বন্ধ হতে দেখেছি কিন্তু ঠাট্টা চলছে বীরদর্পে, অতিক্রম করেছে দীর্ঘ একযুগ; প্রকাশিত হয়েছে ৫০০’র বেশি সংখ্যা। সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরতে পাশে ছিল ইত্তেফাক আর ঠাট্টার বিভাগীয় সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল। অনেক বেশি কৃতজ্ঞতা পাঠকদের, যারা ঠাট্টার অগ্রযাত্রায় সাহস জুগিয়েছেন। চলতে থাকুক ঠাট্টা বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। জীবনটা হোক ঠাট্টাময়।