/ নীরব চন্দন
রাত এগারোটা। লিখছি। এমন সময় স্কুল জীবনের এক বন্ধুর ফোন, ‘কি রে কি করিস?’
—লিখি।
—কি লিখিস?
—ঠাট্টার একযুগ।
—কী বলছিস এসব? একজগ মানে?
—এক জগ নয়, একযুগ।
—কী বললি? আবার বল। জগ নিয়ে যেন কী বলছিলি?
—তোরে কতবার বলব যে, জগ নয় যুগ। তুই একটা বয়রা। তোর সঙ্গে কথা বলাই ভুল।
কথাগুলো বলে ফোনটা রাখতে না রাখতেই পাশের রুম থেকে বউ এসে হাজির। বউ বলল, ‘এত রাতে জগ জগ করে চিত্কার করছ কেন? এই নাও জগ। আর ‘টু’ শব্দও করবে না বলে দিলাম কিন্তু।’ আমি কিছু বলার আগেই বউ হনহন করে চলে গেলো। আমি আবারও লেখা শুরু করার জন্য টেবিলে রাখা কলমটা নেওয়ার জন্য হাত বাড়ালাম। কপাল মন্দ হলে যা হয় তাই হলো। কাচের জগটা টেবিল হতে পড়ে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো। সাথে প্রচন্ড রকমের শব্দ। আমি আর কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে চুপিচুপি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম। তখন বউ নিশ্চুপ। কিন্তু এত উচ্চমাত্রার শব্দে বউয়ের নিশ্চুপ হয়ে থাকাটা এখনো আমার কাছে বিরাট রহস্য।
খিলক্ষেত, ঢাকা।