সাজ্জাদ হোসেন
শূয়রের বাচ্চার দাঁত উঠলে নাকি সবার আগে
নিজের বাবার পাছায় কামড় দেয়। পরীক্ষা করে
তার দাঁতের শক্তিমত্তা। আমাদের যখন দাঁত উঠলো,
আমরা শুধু বাবাকে কামড়ই বসাইনি; তাকে
ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়েছি। চেটেপুটে খেয়েছি তার রক্ত-মাংস,
অস্থি-মজ্জা, মগজ-খুলি সব। খেয়েছি কাঁচা, তরতাজা।
বেজায় উত্তপ্ত আমাদের পরিপাকযন্ত্র। বেজায় বিষাক্ত
আমাদের দাঁত। বিষেই গলে উপাদেয় স্যুপ হয়ে
গেছে জনকের আপাদমস্তক। আলাদা চুলায় রান্নারও
দরকার পড়েনি।
আমরা তবে কিসের বাচ্চা?
আজন্ম ক্ষুধা নিয়ে ডিম ফেটে বের হয়ে সবার আগে
নিজের মাকে জ্যান্ত খেয়ে ফেলে মরু-মাকড়ের ছানারা।
সচল মা অস্তিত্ব হারায় অচল শুষ্ক খোলসে। আমাদের
বাবাই আমাদের মা ছিল। আমরা যখন ডিম ফুটে বের
হয়েছি, তখন মাকে শুধু চিবিয়ে শুষ্ক খোলসই বানাইনি,
তাকে অস্তিত্বহীন করেছি আমাদের জিঘাংসার উনুনে।
তার হাত-পা-মাথা-চোখ-কান-নাক-মুখ-ধড়-অধর-
পাঁজর সবই খেয়েছি ঝাঁঝরা করে।
আমরা তবে কিসের বাচ্চা?