প্রতিটি শিক্ষার্থীর একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে ভালো এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা। হাজারো স্বপ্ন আর বুকভরা আশা নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। কত পরিকল্পনা, কত বিচিত্র চিন্তাভাবনা আর নতুন ও সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অনুভূতি নিয়ে তারা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো জমা থাকে এই সময়টাতেই। এখানেই রচিত হয় বিশ্ববিখ্যাত গবেষণার সূচনা, স্তম্ভিত হয় বড়ো বড়ো স্বপ্নের খুঁটি। এমনই স্বপ্ন আর আশা নিয়ে প্রকৃতিকন্যাখ্যাত ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বেষ্টিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আগমন ঘটে নবীনদের। পুরো ক্যাম্পাস যেন এখন মুখরিত ও উচ্ছ্বসিত এই নবীনদের আড্ডা-হাসি ও গল্পে-গানে। বসন্তের আগমনে কুঞ্জের চারপাশে ফুলের গন্ধে সম্মোহিত হয়ে ঘুরে বেড়ানো ভ্রমরের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র নবীনরা মুখরিত করে তুলেছে তাদের পদচারণায়।
প্রত্যেক বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র তাদের সরব উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়েই বহমান ভরা যৌবনের পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদ। নদের পাড়ে রাখা বড়ো বড়ো পাথর আর সিমেন্টের তৈরি বেঞ্চে বসে গল্প করতে করতে সময় যে কীভাবে যায় বোঝাই যায় না। নদের কিনারায় রয়েছে আপন মনে ভ্রমণের জন্য রংবেরঙের পাল তোলা নৌকা। কাছে গেলেই মাঝিদের হাঁক শোনা যায় নদীর ওপারে যাওয়ার কিংবা ব্রহ্মপুত্রের সৌন্দর্য অবলোকনের। নদের মৃদু ঢেউ আর বিকালের কণে দেখা আলোয় মিশে যাওয়া নবীনদের আড্ডা-গানের ব্যস্ততা সত্যিই যেন রূপকথার মধুর চিত্র প্রকাশ করে।
২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ছাত্রী সাদিয়া আফরিন পুনম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আগে কখনো বাড়ির বাইরে নিজের পরিবার ছাড়া থাকিনি। প্রথম প্রথম একটু খারাপ লাগত আর নিজেকে একা মনে হতো কিন্তু বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে মিশে খারাপ লাগাটা কেটে গেছে। এক কথায় বলতে গেলে জীবনের সবচেয়ে অন্যতম একটি অভিজ্ঞতা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হল জীবন। কিছু সমস্যা থাকলেও সবাই মিলে একসঙ্গে থাকার মজাই আলাদা। এভাবেই যদি কেটে যেত বছরগুলো তবে কতই না ভালো হতো।
বাকৃবির ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ছয়টি অনুষদের অনার্স প্রথম বর্ষের লেভেল-১, সেমিস্টার-১) ক্লাস একযোগে শুরু হয়েছে। সবুজ ঘাসের চাদরে মোড়ানো পর্যটনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে ১ হাজার ২০০ একরের বিশাল ক্যাম্পাস। হলে সবার আন্তরিক সহযোগিতা। শিক্ষকদের জ্ঞানগর্ভ উপদেশ। সব মিলে দারুণভাবে শুরু হলো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পথচলা। এ উক্তিগুলো ময়মনসিংহে অবস্থিত বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল অনুষদের নবীন শিক্ষার্থী শাকিল, মেহরাব, মেহেদি ও তানজিলা আক্তারের। একই সঙ্গে কৃষি প্রকৌশল অনুষদের শারমিন শাম্মি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিজ্ঞানী হওয়ার কথা। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রবল। ন্যূনতম কোনো সুযোগ পেলে নিজের ভিশন বাস্তবায়ন করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।
এদিকে মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদে এবার ভর্তিকৃত মেহেদী জানান, এখান থেকে পাশ করে নিজেকে দেশের সেবায় নিয়োজিত করার সুযোগ রয়েছে। আমি দক্ষ কৃষিবিদ হয়ে দেশের জন্য কিছু করতে চাই। মেহেদীর মতো নবীনরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিচিত্র ধরনের স্বপ্ন নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছে। এভাবেই অনেক নবীন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে এ ক্যাম্পাস। স্বপ্ন পূরণে তাই শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের উন্নয়নে তারা অপার ভূমিকা পালন করবে। দেশকে নিয়ে যাবে এক অনন্য উচ্চতায়।