আগরতলা নিয়ে সিনেমা বানাবো

চলচ্চিত্র পরিচালক, বিজ্ঞাপন ও নাট্যনির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর দ্বিতীয় সিনেমা ‘রিকশা গার্ল’ তথা ‘নাঈমার রঙ’-এর প্রথম পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে অনেক আগে। এরপর থেকেই সিনেমাটির অপেক্ষায় আছেন অনেকেই। তিনি ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, এটি শুধুই ইংরেজি ভাষার সিনেমা। বাংলা সাবটাইটেল বা ডাবিং করা হবে না। তবে তার ইচ্ছে বেশকিছু বাংলা সিনেমা বানানো। এছাড়াও নানা প্রসঙ্গে তিনি অকপটে বলেছেন। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বায়োপিক হচ্ছে। এরমধ্যে অনেককে বিভিন্ন চরিত্রের জন্য নেওয়া হচ্ছে। ছবিটি প্রসঙ্গে আপনার প্রত্যাশা শুনতে চাই—

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দুটি সিনেমা হচ্ছে। একটি বানাচ্ছেন রিচি মেহতা, আরেকটি শ্যাম বেনেগাল। রিচি মেহতার সিনেমাটি নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। এর আগে তার ‘দিল্লি ক্রাইম’ সিরিজটা দেখেছি। তিনি এবং তার যে টিম, ভেরি ট্যালেন্টেড। আমি বিশ্বাস করি এটা খুবই আন্তর্জাতিকমানের একটা সিনেমা হবে। শ্যাম বেনেগালের ছবিটা কেমন হবে ঠিক বলতে পারি না। নিশ্চয়ই তিনি অনেক অভিজ্ঞ একজন পরিচালক। তবে অনেক বছর ধরেই তো তার সিনেমা আমরা দেখিনি, যেটা আমাকে এক্সাইটেড করবে।

এবার আপনার সিনেমা প্রসঙ্গে আসি। আয়নাবাজির পর দীর্ঘ বিরতি নিয়ে রিকশা গার্ল। এত লম্বা বিরতি কী কারণে?

আয়নাবাজির আয়-ব্যয়ের হিসেব তো অনেকবার বলেছি। পুরো ধসে গিয়েছিলাম। তিনতলা অফিস একতলায় গিয়ে নেমেছে! ৬ মাস কোনো কাজ করতে পারিনি। ৫০ লাখ টাকার লোনে পড়েছি। এরপর আর বানাতে চাইনি। তবে রিকশা গার্ল অনেক আগে কথা দেওয়া একটা কাজ।

রিকশা গার্ল নিয়ে একটু বলুন—

ভারতীয় বংশোদ্ভুত যুক্তরাষ্ট্রের লেখিকা মিতালি পারকিনসের লেখা ‘রিকশা গার্ল’ অবলম্বনে চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন শর্বরী জোহরা আহমেদ। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছে নভেরা রহমান। খুব ট্যালেন্টড, আমি তার অভিনয়ে বেশ সন্তুষ্ট।

রিকশা গার্ল অন্য সিনেমা থেকে কতটা আলাদা?

আলাদা হয়তো না। আমি শুধু একটা ডিফারেন্ট ওয়েতে গল্পটা বলার চেষ্টা করেছি। উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে সিনেমাটি বানিয়েছি, এর বাইরেও অনেক উপাদান আছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, একটা চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে সিনেমাটি এগিয়েছে। এটার মধ্যে রিকশা পেইন্টিংকে আনার চেষ্টা করেছি বিভিন্নভাবে। জানি না কতটুকু পেরেছি। তবে আমি চেষ্টা করেছি।

শাকিব খান এ সিনেমায় কাজ করার কথা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত করলেন না...

তিনি হয়তো ব্যস্ত ছিলেন, এ কারণে। পরে তাকে ছাড়াই শুটিং শেষ করেছি।

পরিবর্তিতে সিয়াম যুক্ত হলেন...

ছোট্ট একটা চরিত্র এটি। আসলে সেই চরিত্রের জন্য আমার একজন হিরো দরকার ছিল।

সিনেমা মধ্যে কোনো মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা থাকে, নাকি এন্টারটেইন করাই আপনার আসল উদ্দেশ্য থাকে?

মেসেজ দেওয়ার জন্য আমি সিনেমা নির্মাণ করি না। আমি সিনেমায় মানুষকে এন্টারটেইন করার চেষ্টা করি। এটা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, চিন্তাশীল বিনোদন, বিনোদনের একেবারে বিপরীতও হতে পারে। তবে আমি সবচেয়ে চাই চিন্তাশীল বিনোদনটা মানুষকে দিতে।

এখনকার তারকারা সাহিত্য থেকে অনেকদূরে। খুব কমই আছেন যারা পড়েন। এ ধরনের সহ-শিল্পীদের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে বিষয়টা কতটা টের পান?

খুব বিপদে পড়তে হয়। আসলে বেসিক একটা পড়াশোনা তো থাকতেই হয়। যখন অভিনয়টা ব্রিফ করি তখন তার নিজের মধ্যে নেওয়ার ব্যাপারটায় সমস্যা হয়। গল্প, উপন্যাস যাই বলেন, কিছু একটা পড়ার অভ্যাস থাকতেই হবে। তবে একজন পরিচালকের মূল প্রেমটা হয় সিনেমাটোগ্রাফারের সঙ্গে। তার সঙ্গে জমলেই তারপর সিনেমা বা যেকোনো কাজ শুরু করি।

একজন পরিচালক যে ধরনের সিনেমা বানাতে চান, এতে যদি বাজেট নিয়ে কোনো সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে কী ঘটে?

সিনেমা বানাতে গিয়ে আর্থিক সঙ্কটটা কোনোভাবেই ঠিক না। একটা ক্যামেরা লাগে, কিছু যন্ত্রপাতি-মানুষ লাগে, সিনেমা অনুযায়ী একটা খরচ তো আছেই। একটা স্ট্যান্ডার্ড সিনেমা বানাতে কিছু খরচ আছেই। তবে খরচের বাইরে থেকেও যদি সিনেমাটা নির্মাণ করা যায় তাহলে তো ভালো। যেমন আমরা ‘ভিলেন রকস্টার’ দেখেছি, কম বাজেটের ভালো সিনেমা। আরেকটা হচ্ছে ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’। আসলে ওই মেধা এবং নির্মাণের ইচ্ছে থাকলে অবশ্যই কম খরচে ভালো সিনেমা স্ক্রিনে আনা সম্ভব।

অনেকেই বলেন, আপনারা যারা ক্রিয়েটিভ নির্মাতা তাদের মাঝে ফেস্টিভ্যাল প্রেমটা একটা বেশি। এ মন্তব্য প্রসঙ্গে কী বলবেন?

আমি কখনোই ফেস্টিভ্যালের জন্য সিনেমা বানাতে চাই না। আমি চাই, আমার গল্পটা বলতে। সেটা যদি দেশ-বিদেশের মানুষ দেখতে চায়, আমার কোনো আপত্তি নেই।

ধরুন, টাকা-পয়সার কোনো সমস্যা নেই, আপনি কোন সিনেমাটা বানাতে চান?

কয়েকটা সিনেমা বানাতে চাই। এরমধ্যে আমার চাচাকে নিয়ে একটা সিনেমা বানাতে চাই, খানিকটা রাজনৈতিক গল্প। জানি, সেটার জন্য কেউ টাকা দেবে না। আমি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নিয়ে সিনেমা বানাবো, বহুদিনের ইচ্ছে এটি। জানি না কতদিনে সেটা পূরণ হবে। এছাড়া রুমিকে নিয়ে ছবি বানানোর ইচ্ছে আছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ