মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুদহার শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসাসহ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইউরোপের দেশগুলো প্রতিদিনই কোনো না কোনো সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছে। অনেকটা ‘ব্ল্যাংক চেক’
দিয়ে রেখেছেন অর্থনীতি রক্ষা করতে। তবে অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা কমেনি
g আলাউদ্দিন চৌধুরী
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আতঙ্কে অস্থির সময় পার করছে বিশ্ব শেয়ারবাজার। সার্কিট ব্রেকারের ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেন সাময়িক বন্ধ হয়ে যায় অনেক দেশেই। বিশ্বমন্দার পর এমন পতন আর হয়নি শেয়ারবাজারে। আগের অর্থনৈতিক মন্দায় বিশ্ব যে ক্ষতি দেখেছে সেটি পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেই চেষ্টাই করছে বিশ্ব নেতৃবৃন্ধ। বিনিয়োগ ঠিক রাখতে প্রায় সব বড়ো অর্থনীতির দেশ কেন্দ্রীয়ভাবে সুদের হার কমিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুদহার শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসাসহ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো প্রতি দিনই কোনো না কোনো সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছে। অনেকটা ‘ব্লাংক চেক’ দিয়ে রেখেছেন অর্থনীতি রক্ষা করতে। তবে অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা কমেনি। মার্কিন শেয়ারবাজরে ডো এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১৯৮৭ সালের পর সবচেয়ে বড়ো পতন লক্ষ্য করা যায়। জে পি মর্গানের হিসাব অনুযায়ী পরপর আগামী দুই প্রান্তিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। চলতি বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০১৯ সালের চেয়ে অর্ধেক কমে যাবে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিতে ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের লোকসান ঘটাবে, যা গোটা যুক্তরাজ্যের জিডিপির সমান। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ মন্দায় পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে দরপতনের ফলে বিশ্বের সব প্রান্তের এবং সব শিল্পের বিলিয়নারদের সম্পদ কমেছে। পর্যটন খাতে প্রায় সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমান পরিবহন, হোটেল, রেস্তোরাঁসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বিশ্ববাজারে যে প্রভাব পড়েছে, তাতে অতি ধনীদের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন অনেকেই। উন্নত বিশ্বের প্রায় সবাই অর্থনীতির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সচেষ্ট হয়েছে। কিন্তু সারা বিশ্বের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ক্ষতি হবে তা কাটিয়ে উঠতে বেশ কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের ঘরে বসে কাজ করতে বলছে। কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ায় পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পর্যটক আগমনে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী এই খাত সংশ্লিষ্ট ৫ কোটি মানুষ বেকার হওয়ার আশঙ্কা করেছে ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল (ডব্লিউটিটিসি)। অর্থনীতি ধরে রাখতে সব ধরনের প্রচেষ্টা নেওয়ার পরেও বিনিয়োগকারীরা আশস্ত হতে পারছে না। তাই প্রতি দিনই টালমাটাল অবস্থা যাচ্ছে বিশ্ব শেয়ারবাজারে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতির কতটুকু ক্ষতি হবে সেটি এখনই পরিমাপ করা সম্ভব নয়। মহামারি ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট। ফলে ক্ষতির হিসাবও সংশোধন করতে হচ্ছে। মন্দার প্রভাব কতটা ভয়াবহ হবে তা নিয়েই এখন অস্থির সময় পার করছে বিশ্ব নেতৃবৃন্ধ।