প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে টাস্কফোর্স
গঠন প্রয়োজন
—অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী
অর্থনীতিবিদ
করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাত ছাড়াও সার্বিক অর্থনৈতিক খাতের স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সব পক্ষের সমন্বয়ে শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন। কেননা এবারের পরিস্থিতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে কঠিন অবস্থা। পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। গার্মেন্টস, চামড়াসহ অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি কমছে। কমছে আমদানিও। এসব কারণে রাজস্ব আদায়ও কমে যাবে। অন্যদিকে ওষুধের কাঁচামাল আমদানি হতো চীন থেকে। এসব রিএজেন্ট আমদানিও এখন সমস্যায়। ফলে ভবিষ্যতে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের উত্পাদন সমস্যায় পড়তে পারে। সার্বিক বিবেচনায় দেশের অর্থনীতি সংকটের দিকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে গেল। এজন্য কালোবাজারিদের পাশাপাশি মানুষের মজুদ করে রাখার প্রবণতাও দায়ী।
০০০
দেশের রপ্তানি খাত মারাত্মক
পরিস্থিতির মুখোমুখি
—ড. রুবানা হক
সভাপতি, বিজিএমইএ
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আমরা এখন মারাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি। ব্র্যান্ডগুলো ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিচ্ছে এবং অব্যবহূত কাপড় ধরে রাখতে বলছে। বৈশ্বিক চাহিদা স্থবির বলে যারা উত্পাদনে আছে, তাদের জাহাজীকরণ থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকা জুড়ে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পোশাকের দোকান। ইতিমধ্যে অন্তত ১০ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। যার প্রভাবে আসন্ন তারল্য সংকটে পরিণতি হবে গুরুতর। উত্পাদনমুখী ইউনিটগুলো আর্থিকভাবে ভঙ্গুর হয়ে পড়বে। ঈদের ঠিক আগে যখন আমাদের বোনাসও পরিশোধ করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে শিল্পের জন্য সম্ভাব্য সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ রপ্তানি কমে যাওয়া ও জাহাজীকরণে ব্যর্থতা।
০০০
বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা
দেখা দিয়েছে
—সিদ্দিকুর রহমান
সহসভাপতি, এফবিসিসিআই
করোনা প্রভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসা-বাণিজ্যে কতটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে এখন কিছুই বলা যাবে না। সব খাত বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য অবস্থা খুবই ভয়াবহ। ইউরোপ ও আমেরিকায় করোনার প্রভাব শেষ না হলে রপ্তানি খাতও ভালো হবে না। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চীনের মোট বাণিজ্য প্রায় ১৪ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের। পোশাক খাতে বিশেষ করে ওভেন খাতের কাঁচামালের ৬০ শতাংশ আসে চীন থেকে। অন্যদিকে নিট খাতে আসে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁচামাল। করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পোশাক খাত, প্লাস্টিক, চামড়া, ইলেকট্রনিক, মেডিক্যাল সামগ্রী, কম্পিউটার, যোগাযোগসহ সব খাতে স্বাভাবিক সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।