মুজিববর্ষে ব্যাংকগুলোর নানা উদ্যোগ

 এম এ মাসুম

 

‘মুজিববর্ষ’ উদ্যাপন হলো—১৭ মার্চ মঙ্গলবার ভোর থেকেই। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। দিনটিকে ঘিরে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রিশতলা ভবনের নিচে বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন সময়ের ছবি টানানো হয়েছিল। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণানা শুরু হয়েছে ৭ই মার্চ। সাজানো হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিটি প্রবেশ দ্বার। পাশাপাশি লাল সবুজ আলোতে আলোকিত ছিল রাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের যৌথসভায় মুজিববর্ষ উত্যাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ঐ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সরকার মুজিববর্ষ উদ্যাপন করবে। সেই আলোকে দেশের তপশিলি ব্যাংকগুলো বিভিন্ন শাখায় মুজিব কর্নার উদ্বোধন করে। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ২০০ টাকা মূল্যমানের নতুন নোট ছেড়েছে। বাজারে প্রচলিত ১০, ২০, ৫০, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার মতোই ২০০ টাকার নোট বাজারে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে ১০০ টাকা মূল্যমানের স্মারক মুদ্রা ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নাটোরের ৫০০ টম্যাটো চাষিকে ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ দিয়েছে রূপালী ব্যাংক।

‘মুজিববর্ষের স্পর্শে স্পন্দিত রূপালী ব্যাংক’ এই প্রতিপাদ্যে ১ জানুয়ারি থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে টম্যাটো চাষিদের মধ্যে ‘জিরো কুপন লেন্ডিং’ কর্মসূচির আওতায় ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে রূপালী ব্যাংক। পাইলট প্রকল্প হিসেবে    নাটোরের ৫০০ টম্যাটো চাষিকে ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। দেশে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে জনতা ব্যাংক ‘মুজিববর্ষ স্মারক ঋণ’ কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় শিক্ষিত দরিদ্র বেকার যুবক-যুবতিদের স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান  করা হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে দরিদ্র্য কৃষকের জন্য সুদবিহীন ঋণ বিতরণ কর্মসূচি চালু করছে সোনালী ব্যাংক। এছাড়া স্বাধীনতা যুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে (সম্মুখ সমর, শিল্প-সাহিত্য, সংগীত-সাংস্কৃতিক) বিরোচিত ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের ‘বঙ্গবন্ধু পদক’ প্রদান করবে তারা। শিক্ষিত বেকার ও অসচ্ছল তরুণ-তরুণীদের জন্য ‘জনতা ব্যাংক বঙ্গবন্ধু শুভ সূচনা’ নামক ঋণ বিতরণ স্কিম চালু করবে জনতা ব্যাংক। এছাড়া ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী শুভ হোক’ শীর্ষক সিলমোহর এবং বঙ্গবন্ধুর         ৭ই মার্চের ভাষণ-সংবলিত বুকলেট প্রকাশ করবে তারা। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) পূরণে ‘অগ্রণী গ্রাম’ নামে যে কোনো একটি গ্রামের মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্যানিটেশন, সুপেয় পানি, সুস্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। এর ন্যূনতম ব্যয় ধরা হচ্ছে ৫০ লাখ টাকা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী বছরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। এ লক্ষ্যে বছরব্যাপী ব্যাংকের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ‘মুজিববর্ষের স্পর্শে নন্দিত ২০২০’ এমন নতুন স্লোগান নির্ধারণ করেছে। আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৃহনির্মাণ করে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটি। এজন্য তাদের সি এস আর খাত থেকে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রত্যেক অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার জন্য একটি করে গৃহনির্মাণ করে দেবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শতায়ু সঞ্চয় প্রকল্প’ চালু করবে বেসিক ব্যাংক লিমিটেড। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। দারিদ্র্য বিমোচনে স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য মাত্র ৭ শতাংশ সুদে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের ঘোষণা   দিয়েছে ব্যাংকটি। ব্যাংকের যে কোনো শাখায় আবেদন     করে একজন ব্যক্তি ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। যেখানে ব্যাংকের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী হোসেন প্রধানিয়া উপস্থিত ছিলেন।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমা, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়া বিমা, বঙ্গবন্ধু বিমা বৃত্তি ও বঙ্গবন্ধু বিমা পুরস্কারের আয়োজন করবে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ (এমআরএ) আওতাভুক্ত সনদপ্রাপ্ত ৭২৩টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী করপোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটির (সিএসআর) আওতায় ক্ষুদ্রঋণের গ্রাহকদের সন্তানদের মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু উচ্চশিক্ষা বৃত্তি’ প্রদান করবে। ‘বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বিমা’ শীর্ষক জনপলিসি চালু করবে সাধারণ বিমা করপোরেশন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১ মার্চ, ২০২০ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু সর্বজনীন পেনশন বিমা স্কিম’ চালু করবে জীবন বীমা। জীবন বীমা টাওয়ারকে ‘বঙ্গবন্ধু জীবন বীমা টাওয়ার’ নামকরণ, আধুনিক প্রিমিয়াম কালেকশন বুথ ও সেবাকেন্দ্র স্থাপন করবে তারা।

‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি’ প্রদান করবে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। এর সুবিধাভোগী বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য-সদস্যদের মেধাবী সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদানের উদ্দেশে এই বৃত্তি চালু করা হবে। অঞ্চলভিত্তিক তিন জন নিয়োমিত ঋণ বা কিস্তি পরিশোধকারী সফল উদ্যোক্তাকে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করবে কর্মসংস্থান ব্যাংক।