কোয়ারেন্টাইন

করোনা ভাইরাস বিশ্বে ছড়িয়ে পর কিছু শব্দ বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। এরমধ্যে অন্যতম ‘কোয়ারেন্টাইন’, ‘স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইন’, ‘আইসোলেশন’ ও ‘লকডাউন’। এই শব্দগুলো অনেকের কাছেই অপরিচিত। আবার অনেকেই এগুলোর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তবে বিষয়গুলো কঠিন নয়, জেনে নিন—

০০০

কোয়ারেন্টাইন

 

আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ, কিন্তু তিনি অসুস্থ হতে পারেন, আবার নাও পারেন। তার মধ্যে হয়তো জীবাণু আছে, কিন্তু কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়নি—এমন ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে একজন মানুষকে প্রাথমিকভাবে ১৪ দিন এভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়। তবে কোয়ারেন্টাইন মানে এই নয় যে, আপনাকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেওয়া হলো।

কোয়ারেন্টাইনে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৬ জনকে একসঙ্গে রাখা যায়। এর বেশি হলে সেটা আর কোয়ারেন্টাইন নয়। আলাদা করে সবাইকে রাখা হচ্ছে। অবজারভেশনে রাখা না হলে এ রোগ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানে আপনার ফোন নিয়ে নেওয়া হবে এমন না। এমনকি প্রতিনিয়ত ব্যবহার্য জিনিসপত্রও কেড়ে নেওয়া হবে না।

০০০

স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইন

 

কোনো ব্যক্তি যখন সকল প্রকার সামাজিকতা থেকে দূরে থেকে ঘরের মধ্যে অবস্থান করেন তখন সেটিকে বলে স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইন। এক্ষেত্রে ব্যক্তি কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত নাও হতে পারেন। আবার হয়তো তিনি কোভিড-১৯ আক্রান্ত দেশ ভ্রমণও করেননি, বরং এই ভাইরাস যেন ছড়িয়ে না পড়ে এজন্য নিজেকে আলাদা রেখেছেন। যারা স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরমধ্যে হাত না ধুয়ে নিজের চোখ, মুখ ও নাক স্পর্শ না করা। আর প্রতিদিন কয়েকবার সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া।

০০০

আইসোলেশন

 

আইসোলেশন হচ্ছে কারও মধ্যে যখন জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়ে বা ধরা না পড়লেও উপসর্গ থাকে তখন তাকে আলাদা করে চিকিত্সার ব্যবস্থা করা। বিশেষ এই পদ্ধতিতে কোনো রোগীর হাঁচি, কাশি, মলমূত্র অন্য কারও সংস্পর্শে যাবে না। জীবাণু যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, এজন্য রোগীকে যত রকম ব্যারিয়ার দেওয়া সম্ভব, আইসোলেশনে তা দেওয়া হয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইসোলেশন হচ্ছে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য, আর কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে সুস্থ বা আপাত সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য। আইসোলেশনে কতদিন রাখা হবে তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে পুরোপুরি সেরে না ওঠা পর্যন্ত আইসোলেশনে রাখা হয়।

০০০

লকডাউন

 

সহজে বললে তালাবদ্ধ করে দেওয়া। শব্দটির ব্যাখ্যায় ক্যামব্রিজ ডিকশনারিতে বলা হয়েছে, কোনো জরুরি পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষকে কোনো জায়গা থেকে বের হতে না দেওয়া কিংবা ওই জায়গায় প্রবেশ করতে বাঁধা দেওয়াই হলো ‘লকডাউন।’ এছাড়া অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে বলা হয়েছে, জরুরি সুরক্ষার প্রয়োজনে কোনো নিদিষ্ট এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ করাই ‘লকডাউন।’ তবে ‘লকডাউন’ শব্দটির সরল বাংলা ‘অবরুদ্ধ’ কিংবা ‘প্রিজনে রাখা’ বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মুনতাসির হাসান। এই মতটিকেই সমর্থন করে সাবেক অধ্যাপক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. কামাল উদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এই শব্দটি নতুন আসায় এর বাংলা প্রতিশব্দ এই মুহূর্তে বলা কঠিন। তবে এর অর্থ অবরুদ্ধতা হতে পারে।’